ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানির থেকে দামী উপহার ও বিদেশে বেড়ানোর টিকিট মহুয়ার, সাংসদের বিতর্কে মুখ খুলল তৃণমূল

অবশেষে এবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিতর্কের বিষয়ে মুখ খুলল ঘাসফুল শিবির। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানি হলফনামা দিয়ে জানান যে কীভাবে তিনি মহুয়ার নানান আবদার মিটিয়েছেন। তাঁকে দামী উপহার দেওয়া থেকে শুরু করে, দিল্লির বাংলো সারানোর ব্যবস্থা, বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া, সবই করেছেন তিনি। শিল্পপতির কথায়, তাঁর মাঝেমধ্যেই মনে হয়েছে যে মহুয়া অন্যায্যভাবে তার থেকে সুবিধা নিয়েছেন।

এবার এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল তৃণমূল। জানা গিয়েছে, কালীঘাটের নির্দেশেই এই বিষয় নিয়ে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “মহুয়ার ব্যাপারে তৃণমূলের কোনও বক্তব্য নেই। দল কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবে না”। তৃণমূলের এহেন প্রতিক্রিয়া থেকে বেশ পরিষ্কার যে মহুয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তার জবাব তাঁকে নিজেকেই দিতে হবে। এই নিয়ে দল কোনও মন্তব্য করবে না বা জড়াবে না।

তৃণমূল সূত্রে খবর, মহুয়ার এই বিতর্কে বেশ বিরক্ত কালীঘাট। তাঁর বিরুদ্ধে এমনিতেই দলের একাংশের ক্ষোভ রয়েছে। নদিয়ার একাধিক নেতা মমতা ও অভিষেকের কাছে অভিযোগ করেছেন যে মহুয়ার ব্যবহার একেবারেই ভালো না। এর উপর তিনি যা বিতর্কে জড়িয়েছেন, এর জেরে দলের যে বেশ মুখ নষ্ট হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।  

তৃণমূলের শীর্ষ সারির নেতার কথায়, আদানি প্রশ্নে সুস্থির অবস্থান নিয়েছিল তৃণমূল। মহুয়াকে কিছু বলতে বলেনি দল। তাই সাংসদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের দায় একাবারেই তৃণমূলের নয়। মহুয়া কেন এমন করেছেন, তা তিনি নিজেই ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তুলে স্বাধিকার ভঙ্গ করেছেন মহুয়া মৈত্র। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রও করেছেন তিনি। তিনি জানান যে এই বিষয়ের সব অভিযোগের স্বপক্ষে আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদরি তাঁকে সমস্ত প্রমাণ দিয়েছেন। মহুয়া এই দুজনের বিরুদ্ধেই দিল্লি হাই কোর্টে মানহানির মামলা করেছেন। শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টে মামলার শুনানি ছিল। তবে স্বার্থের সংঘাতে পড়ে তাঁর আইনজীবী মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে পিছিয়ে যায় মামলার শুনানি। এর জেরে যে সাংসদ আরও চাপে পড়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

RELATED Articles