কোলে মাস ছয়েকের সন্তান। তাকে কোলে নিয়েই চলন্ত বাসের সামনে ঝাঁপ দিলেন এক মহিলা। আ’ত্ম’ঘা’তী হতে চাইছেন বুঝতে পেরে জোরে ব্রেক কষেন বাসচালক। ফলে প্রাণ বাঁচে মহিলা ও শিশুর। এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে যায় ট্র্যাফিক পুলিশ ও আশেপাশের সকলে। ওই মহিলা ও শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
কেন এমন ঘটনা ঘটালেন ওই বধূ?
ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের সুনীতি রোডের ব্রাহ্মমন্দির সংলগ্ন চৌপথিতে। ওই বধূকে উদ্ধারের পর ট্র্যাফিক পুলিশ তাঁর থেকে জানতে চান, কেন এমন একটি ঘটনা ঘটালেন তিনি। তাতে ওই মহিলা যা জানান, তাতে বিস্ময়ের শেষ পর্যায় পৌঁছে যান সকলে।
ওই গৃহবধূ জানান, তিনি শীতলকুচির বাসিন্দা। বছর দুয়েক আগে মাথাভাঙার এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাদের ছয় মাসের এক সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তারই অন্নপ্রাশন ছিল। এই অনুষ্ঠানে অতিথিদের খাবারের খরচ করে মহিলার শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ি মিলে। কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষের দিকে নাকি মাছ কম পড়ে যায়।
সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদ শুরু হয়। মহিলা জানান, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে এর জন্য দোষারোপ করে। এমনকি, অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধরও করে। তা সহ্য করতে পারেন নি তিনি। তাও ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।
কিছুদিন এক আত্মীয়ের বাড়ি ছিলেন কিন্তু সেখানে বেশিদিন থাকতে পারেন নি। কোনও রাস্তা না পেয়ে অবশেষে সন্তানকে নিয়েই আ’ত্ম’হ’ত্যার চেষ্টা করেন মহিলা। ওই মহিলা ও তাঁর সন্তানকে কোচবিহার সদর মহিলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীরা। লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। জানা গিয়েছে, মহিলার বাবাকে ডেকে ওই মহিলা ও শিশুকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।





