স্বামী চোখে দেখতে পান না, সংসার তো চালাতেই হবে, দু’মুঠো অন্ন জোটাতে টোটো নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন মহিলা

‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’, এই প্রবাদ বাক্যটি বেশ প্রচলিত। তবে এবার যিনি রাঁধেন, যিনি টোটোর হ্যান্ডেলও ধরলেন। মহিলারা যে সত্যিই মা দুর্গার রূপ, তা অস্বীকার করা যায় না। নিজের স্বামী-সন্তানকে ভালো রাখার জন্য যে কোনও পরিশ্রম করতে পিছপা হন না তারা। এবার এমনই এক কাহিনী কথা উঠে এল রায়গঞ্জ থেকে।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

স্বামী টোটো চালিয়েই রোজগার করতেন। তবে চোখের সমস্যার জন্য দৃষ্টি হারান তিনি। সেই কারণে এখন বাড়িতেই থাকেন। বাড়িতে এক সাত বছরের সন্তান। কিন্তু সংসার তো ফেলে রাখা যাবে না। স্বামী-সন্তানের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তো তুলে দিতেই হবে। এসব ভেবে যখন দিশেহারা অবস্থা, তখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলেন রায়গঞ্জের প্রসাদী সরকার। টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়।

সূত্রের খবর, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরে প্রসাদীই প্রথম মহিলা টোটো চালক। রায়গঞ্জের কমলাবাড়ির গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। একটি ছোটো কুঁড়ে ঘরে কোনওরকমে মাথা গুঁজে থাকেন তিনজন। এই অভাবী সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই এখন সকাল সকাল স্বামী-সন্তানের জন্য অল্প কিছু রান্নাবান্না করেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মহিলা।

খুন্তি নাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে টোটোর হ্যান্ডেলও ভালোই ম্যানেজ করা যায়, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন এই প্রসাদী। রায়গঞ্জের রাস্তায় তিনি যেভাবে টোটো নিয়ে ঘুরে ঘুরে রোজগার করছেন, তাতে সাধারণ মানুষ তাঁকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন।

তবে পুরুষ টোটো চালকের ভিড়ে কোনও অসুবিধা হয় না তাঁর?

প্রসাদীর উত্তর, “সবাই আমায় সাহায্য করে। সৎ পথে রোজগার করছি। অসুবিধা হওয়ার কথাও নয়”।

কীভাবে টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?

মহিলা জানান, “স্বামীর চোখের সমস্যা হওয়ার পর থেকেই বাড়িতে বসে যান। মাঝেমধ্যে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার হলে এই টোটোতেই যেতে হতো। তখনই ঠিক করি যে আমিই টোটো চালাব। তাই এখন সকাল সকাল বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সেরে, ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে টোটো নিয়ে রায়গঞ্জের রাস্তায় বেরিয়ে পড়ি”।

RELATED Articles