প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। প্রেমিককে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করলেন মহিলা। সিসিটিভিতে ধরা পড়ল গোটা ঘটনা। সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ভদ্রেশ্বর খুঁড়িগাছি এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম তাপস প্রামাণিক। জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার সকালে ভদ্রেশ্বরের চাঁপাদানি ডিভিসি খালধার খুঁড়িগাছি এলাকায় ওই ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে কোপান শবনম খাতুন নামের এক মহিলা।
পুলিশ সূত্রে খবর, শবনম বিবাহিতা। আগে তিনি রিষড়ায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। তবে বর্তমানে খুঁড়িগাছি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখানেই তাপসের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। ধীরে ধীরে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। তাদের একে অপরের বাড়িতেও যাতায়াত ছিল বলে খবর। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। আচমকাই এক মহিলা পুরুষসঙ্গীর উপর চড়াও হন। কোপাতে থাকেন তাঁকে। সেই সময় রাস্তা দিয়ে এক সাইকেল আরোহী যাচ্ছিলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লে দুই মহিলা হেঁটে চলে যান।
এই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে চন্দননগর হাসপাতালে পাঠায়,। চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ওই ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে বলে খবর। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি বলেন, “নিজেদের মধ্যে কোনও অশান্তি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় আরও এক মহিলা ছিলেন। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে”।
স্থানীয় কাউন্সিলর চাঁপদানি পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ সাউয়ের কথায়, “যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই ব্যক্তির। জানতে পেরেছি, গতকাল (শুক্রবার) বিকাল থেকে নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল চলছিল ওঁদের। তার পর এই ঘটনা। পুলিশ অভিযুক্তকে ধরেছে। আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে”।





