বাংলার মহিলাদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। কিছুদিন আগে দেখা গিয়েছিল এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো টাকা দিয়েই গ্রামে প্রথমবার দুর্গাপুজো করেছিলেন সুন্দরবনের মলয়া গ্রামের মহিলারা। এবার সেই সুন্দরবনেরই অন্য গ্রামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়ে ধনদেবীর আরাধনা করলেন গ্রামের বধূরা।
গঙ্গাসাগরেরই অন্তর্গত একটি গ্রাম হল চেমাগুড়ি। চারদিকে নদী দিয়ে ঘেরা এই গ্রামকে সুন্দরবনের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলা যায়। মাটির বাঁধ দিয়ে ঘেরা চারিদিক। কিন্তু যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেই বাঁধ ভেঙে সর্বস্ব ভেসে যায় গ্রামবাসীদের।
গ্রামের ভেতর ঢুকে পড়ে নোনা জল। এর ফলে চাষবাসের বিশাল ক্ষতি হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য একমাত্র ঈশ্বরই সহায় এই গ্রামের মানুষদের। গোটা বছর যাতে তাদের সংসারে শ্রীবৃদ্ধি বজায় থাকে, সেই কারণে এবার লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করলেন গ্রামের মহিলারা।
গতকাল, শনিবার ছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এদিন সকাল থেকেই মা লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্যস্ত ছিলেন গঙ্গাসাগরের চেমাগুড়ি এলাকার মহিলারা। দুর্গাপুজোর মতোই বেশ জাঁকজমক করেই দেবী লক্ষ্মীর পুজো করেন মহিলাগোষ্ঠী।
ওই গ্রামের মহিলাদের কথায়, লক্ষ্মীদেবীর পুজোর জন্য তারা অনেক দিন আগে থেকেই টাকা জমাতে শুরু করেছিলেন। সরকারের তরফে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে তারা যে টাকা পান, সেই টাকা থেকেই কিছু কিছু করে টাকা পুজোর জন্য জমিয়ে ছিলেন তারা। আর বাকিটা তুলেছিলেন গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে। সেই টাকা দিয়েই জমজমাট পুজোর আয়োজন করতে পেরে চেমাগুড়ি এলাকার মহিলারা বেশ খুশি।





