সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই কারণে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এখন জনসংযোগ বাড়াতে মাঠে নেমেছে জোরকদমে। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই চলছে প্রচার, সভা, মিছিল। ভোটের আগে মানুষের মন জয় করতে নেতারা পৌঁছে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। এই আবহেই রাজনৈতিক চাপানউতোর, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
এই প্রেক্ষাপটেই আজ ভবানীপুর এলাকায় প্রচারে নামেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সমর্থনে প্রচার চালান। স্থানীয় এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দলীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই প্রচারের মধ্যেই তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
মেয়রকে সামনে পেয়েই এলাকার একাধিক মহিলা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে ধরে সরাসরি নিজেদের বঞ্চনার কথা জানাতে থাকেন। অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘদিন ধরে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। কেউ কেউ বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা বারবার জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে প্রচারের মঞ্চেই ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, মহিলারা নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতেই তৃণমূল কর্মীদের একাংশ তাঁদের হুমকি দিতে শুরু করে। এমনও দাবি করা হয় যে, অভিযোগ জানালে তাঁদের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না বলে ভয় দেখানো হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর
আরও পড়ুনঃ “আমার একটা আছে আর কিছু নেই” ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সাহায্যে দলীয় কর্মীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ! বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়!
ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে ইস্যু করে শাসক দলকে আক্রমণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোটের মুখে এই ধরনের অভিযোগ শাসক দলের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। তবে সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে—ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে জনঅসন্তোষ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা।





