চোপড়ায় কিশোরীর খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশ সূত্রে খবর, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, এবার তার মৃতদেহ মিলল কিশোরীর খুনের ঘটনাস্থল থেকে ৫০ মিটার দূরে।
চোপড়া থানার আইসি বিনোদ গেজমার এক বেসরকারি সংবাদসংস্থাকে জানান, ‘যে যুবকের ওপর খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিল মেয়েটির বাড়ির লোক, এবার তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’ আপাতত ওই যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার সকালে কিশোরীর খুনের ঘটনাস্থল থেকে ৫০ মিটার দূরে, একটি পুকুরে ওই যুবকের মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। জলের উপর শুধু মুখটা দেখা যাচ্ছিল। দেহের বাকি অংশ ছিল জলের তলায়। মুখের বেশিরভাগ অংশটাই লাল হয়ে ছিল। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রং। পুলিশের তদন্তের আগেই নতুন তথ্য দিলেন উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা দু’জন আগে থেকেই একে অপরকে চিনত এবং একই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যেত। বাড়ি থেকে সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার ভয়েই তারা আত্মহত্যা করেছে।’
যদিও তৃণমূল জেলা সভাপতির এহেন যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়েছে মৃত কিশোরীর বাবা। তিনি পুলিশের কাছে আগেই জানিয়েছিলেন, কিশোরীকে নিয়মিত উত্যক্ত করত ওই যুবক। এরপরেই কিশোরীকে সে ধর্ষণ করে খুন করেছে। যুবকের মৃত্যুর পরও সেই বয়ানেই অটল রইলেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, মৃত্যুর আসল কারণ থেকে দৃষ্টি সরাতে তৎপর তৃণমূল। উত্তর দিনাজপুরের জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন, ‘আসল কারণ না খুঁজে দুটি মৃত্যুকে সম্পর্কের পরিণতির সূত্রে বাঁধতে চাইছে তৃণমূল এবং পুলিশ।’ অন্যদিকে তাঁরই সুরে সুর মিলিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন যে, তদন্তের অভিমুখ ঘোরাতেই হয়তো ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এতে হয়তো আসল কারণ ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে। তিনি দু’টি ঘটনারই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





