মনের ইচ্ছাই আসল শক্তি! রামমন্দিরের উদ্বোধন দেখতে এক পায়েই সাইকেল চালিয়ে অয্যোধ্যায় যাচ্ছেন বাংলার যুবক

এক পা নেই তাঁর। কিন্তু অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন দেখার ইচ্ছা প্রবল। সেই কারণে সব বাধা উপেক্ষা করে এক পায়ে সাইকেল চালিয়েই অযোধ্যার উদ্দেশে যাত্রা শুরু বাংলার যুবকের। যুবকের এই ইচ্ছাশক্তিকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কে এই যুবক?

যুবকের নাম সৌমিক গোলদার। গোবরডাঙা বাবুপাড়ার বাসিন্দা তিনি। ২০২০ সালে ডান পায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে তাঁর। দীর্ঘ দুবছর ধরে চিকিৎসা চলে। চিকিৎসায় সাড়াও মিলছিল। কিন্তু ২০২২ সালে স্কুটি করে যাওয়ার সময় ঘটে যায় বড় বিপদ।

স্কুটি থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত লাগে পায়ে। এর ফলে পায়ে প্লেট বসানো হয়। সেখানে আবার ইনফেকশন হয়ে যায়। আর সেই ইনফেকশন গোটা পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা কোনও উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে সৌমিকের ডান পা বাদ দেন। এরপর থেকেই বাঁ পায়ের উপর ভরসা করেই চলে সৌমিকের জীবনযুদ্ধ।

এরই মধ্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের খবর পান সৌমিক। সেই মন্দিরের উদ্বোধনের সাক্ষী থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর বন্ধুরা উৎসাহ যোগায় তাঁকে। ঠিক করে যে তিনি সাইকেল চালিয়েই যাবেন অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনে।

কিন্তু এতটা পথ কীভাবে সাইকেল চালিয়ে যাবেন তিনি, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হয় সৌমিকের বাবা-মায়ের। তবে ছেলের ইচ্ছাশক্তির কাছে শেষমেশ হার মানতেই হয় তাদের। গত ৯ জানুয়ারি বেরিয়ে পড়লেন সাইকেল নিয়ে অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্দেশে। তাঁর সঙ্গে আরও এক যুবকও গিয়েছেন বলে খবর। বলে রাখি, কলকাতায় লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন সৌমিক।  

নিজের এই যাত্রা নিয়ে সৌমিক বলেন, “শ্রীরামচন্দ্র দীর্ঘ পাঁচশো বছর পরে ফিরছেন তাঁর রাজ্যে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পাড়ি দিচ্ছি অযোধ্যায়। পরিবেশ দূষণ রোধের বার্তা দিতেই সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি সাইকেল চালালে শরীর সুস্থও থাকে। এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে যাব ঠিক করার পর পরিবার প্রথমে চায়নি। কিন্তু বোঝানোর পর পরিবারই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। গোবরডাঙাবাসীর থেকেও উৎসাহ পেয়েছি”।

RELATED Articles