দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই এল সাফল্য। টিউশন করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। এবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্য পেলেন ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের নয়াগ্রামের শেখ জাহির আব্বাস। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রেভিনিউ সার্ভিস গ্রুপের পরীক্ষায় ১১৪ র্যাঙ্ক করেছেন আব্বাস। ওবিসিতে তাঁর র্যাঙ্ক ৯।
নয়াগ্রামের শেখ সেলিম ও মলিদা বিবির ছেলে শেখ জাহির আব্বাস। ছোটবেলা থেকেই প্রবল অর্থকষ্টের মধ্যেই বড় হয়েছে সে। বাবা ছিলেন দর্জি। কিন্তু গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি আর কাজ করতে পারেন না। টিউশন করেই সংসার চালান আব্বাস।
আব্বাস বরাবরই পড়াশোনায় বেশ ভালো। বিনপুর হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর মেদিনীপুর আবাসিক থেকে গোবিন্দনগর মুসলিম হাই স্কুলে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ৮৭. ২৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাস করেন।
এরপর ভর্তি হন বাগনানের হাল্লান হাইস্কুলে। সেখান থেকে ৮১ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মেদিনীপুর কলেজ থেকে কেমিস্ট্রি অনার্স করেন। লেখাপড়ার জন্য যখন যেখানে থেকেছেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে টিউশন পড়িয়েছেন আব্বাস। নিজের খরচের পাশাপাশি সংসার চালিয়েছেন তিনি।
অবশেষে পরিশ্রমের ফল পেলেন আব্বাস। গত শুক্রবার তিনি খবর পান যে তিনি সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আব্বাসের একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সেখানে তিনি জানান যে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় সেই সম্পর্কে।
আব্বাস বলেন, “ছোটবেলা থেকে যখন দেখতাম ভাল নম্বর পেলে মানুষ প্রসংশা করছেন, তখনই বুঝেছি লেখাপড়ার গুরুত্ব। বাবা, মার বিশ্বাস ছিল আমি পারব। তাদের বিশ্বাস আমার কাছে অনুপ্রেরণার কাজ করেছে। এই সাফল্য তাদের জন্যই। আমি সব সময় চেষ্টা করব মানুষ যাতে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন তা দেখার। মানুষের পাশে থাকতে চাই। এবার ইউপিএসসি পরীক্ষা আমার পরবর্তী লক্ষ্য”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার