‘কাকু একটা ফাউ দাও’, ফুচকা খাওয়ার পর ফাউ দেন নি বিক্রেতা, রাগের চোটে দোকানদারকে পিটিয়ে খু’ন যুবকের

ফুচকা বেশ লোভনীয় একটি খাবার। ফুচকার নাম শুনলেই যেন জিভ থেকে জল আসে। আর ফুচকা খাওয়ার শেষে একটা বিনামূল্যে ফুচকা না খেলেই নয়, যাকে ফাউ বলে আর কী! কিন্তু সেই ফাউয়ের ফুচকা না দেওয়ার জন্য যে নিজের জীবনটাই দিয়ে দিতে হবে, তা হয়ত ভাবতেও পারেন নি এক ফুচকাওয়ালা। 

কী ঘটেছে ঘটনাটি? 

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে গত ১৪ জানুয়ারি রাতে। মৃ’ত ওই ফুচকাওয়ালার নাম প্রেমচন্দ্র নিশাদ। বয়স ৪০ বছর। কানপুরের দেহহাটের মুসানগরে থাকতেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে ও ৩ মেয়ে। জানা গিয়েছে, অন্যান্যদিনের মতোই সেদিনও ফুচকা বিক্রি করে অনেক রাতেই বাড়ি ফিরছিলেন ওই বিক্রেতা। সেই সময় কানপুরের সুফিপুর মোড়ের কাছে তাঁকে আটকায় বেশ কয়েকজন যুবক। 

অভিযোগ, ফুচকাওয়ালাকে তারা বিনামূল্যে ফুচকা দিতে বলে। কিন্তু তাতে রাজি হন প্রেমচন্দ্র। এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। এরপরই যুবকরা ওই ফুচকাওয়ালাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। তা দেখে ছুটে আসে আশেপাশের লোকজন। তখনই চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। স্থানীয়রাই ফুচকাওয়ালাকে বাড়ি নিয়ে আসে। অভিযুক্তরা দলে ৫ জন ছিল। 

জানা গিয়েছে, বাড়ি ফেরার পর রাতের দিকে অবস্থার অবনতি হতে থাকে প্রেমচন্দ্রের। শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু পরদিন অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় প্রেমচন্দ্রের। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনিই সংসারে একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত ফুচকাওয়ালার স্ত্রী। 

এই ঘটনায় কানপুরের সহকারী পুলিশ কমিশনার দিলীপ কুমার সিং জানিয়েছেন, মৃ’তের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খুব তাড়াতাড়িই গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। প্রেমচন্দ্রের দে’হটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে খবর। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

RELATED Articles