বিদায়ী ভাষণে আবারও বিতর্কের সূত্রপাত করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি জোর দিয়েছেন উত্তরপূর্ব ভারতের সাত রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর প্রসঙ্গে। যদিও এই অঞ্চলকে নিয়ে অতীতে তার মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, তবুও বিদায়ী ভাষণে তিনি তা পুনর্বার উত্থাপন করলেন।
উত্তরপূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টানার পেছনে ইউনূসের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা। তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন, “আমাদের খোলা সমুদ্র শুধু ভৌগোলিক সীমা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দরজা। নেপাল, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য নিয়ে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইউনূস শুধু দেশের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখাচ্ছেন, পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়নের সম্ভাবনাও তুলে ধরছেন।
ইতিহাসে ইউনূসের এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয়। গত বছরের মার্চে তিনি চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রসঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের উল্লেখ করেছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারতের পূর্ব দিকের সাত রাজ্য স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা। সমুদ্রে পৌঁছোনোর কোনো সরাসরি পথ নেই। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের বড় সুযোগ চিন পাবে।” তখনই এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে এবং বিভিন্ন সরকারি পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তার মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়েছিলেন। ভারত সরকার এই বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও, পরবর্তীতে তাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকাকে ‘বাকসংযম’ বজায় রাখার পরামর্শ দেন। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, প্রতিবেশী দেশের ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই বিতর্কের মাঝেও ইউনূস থেমে থাকেননি। গত বছরের মে মাসে নেপালের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা বাংলাদেশ সফরে এলে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের জন্য একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। আলাদা ভাবে নয়, একসঙ্গে কাজ করলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।” এবার বিদায়ী ভাষণেও একই ভাবনা ব্যক্ত করে তিনি এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে পুনরায় তুলে ধরলেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : ভোটের পরই অশান্ত নোয়াখালি! সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগে তোলপাড় বাংলাদেশ রাজনীতি!
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইউনূস শুধু দেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বই জানাননি, পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি বোঝায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কৌশল শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ওপরও নির্ভর করছে।





