Bangladesh : ভোটের পরই অশান্ত নোয়াখালি! সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগে তোলপাড় বাংলাদেশ রাজনীতি!

বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী আবহে ফের অশান্তির খবর। ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো কিছু ভিডিয়ো ও স্থানীয় অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মাঝেই সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে নোয়াখালি জেলার হাতিয়া উপজেলা। অভিযোগ, নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-কে ভোট দেওয়ার জেরে কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে হুমকি ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এক নারী সদস্যের কান্নার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি স্থানীয় জামাত কর্মীদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট এবং স্থানীয় এনসিপি কর্মীরাই হামলার নেপথ্যে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের তরফে পাল্টা দাবি, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য, ভোটের দিন ও তার পরে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও তেমন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

হাতিয়ায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা মানববন্ধন করে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় নৌবাহিনী মোতায়েন থাকলেও বাস্তবে সুরক্ষার অভাব রয়ে গেছে। স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরছাড়া হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে। ভোটের পরপরই নিরাপত্তাহীনতার আবহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ CPM : ভোটের মুখে বাম শিবিরে বড় ফাটল? প্রতীক-উর ছাড়তেই নীরব সুরে বার্তা মীনাক্ষীর—কোন দিকে এগোচ্ছে সিপিএম?

শুধু নোয়াখালি নয়, অন্যান্য জেলাতেও মন্দির ও হিন্দু বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। রংপুর-এর পীরগঞ্জে কালী মন্দির চত্বরে গাছ কাটার অভিযোগ, সিলেট-এর তারাপুর মন্দিরে অগ্নিসংযোগের দাবি, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁওয়েও ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে আশ্বাস মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটছে না—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles