ইতিহাসে আসবে বদল? পরমাণু বিস্ফোরণের জেরেই ধ্বংস হয়েছে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো, চাঞ্চল্যকর প্রমাণ হাতে এল বিজ্ঞানীদের

ইতিহাস বলছে অতিরিক্ত বন্যাও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই সিন্ধু সভ্যতার দুই প্রাচীন শহর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো (Harappa and Mohenjodaro) ধীরে ধীরে বিলুপ্তি ঘটেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পরমাণু বিস্ফোরণের ফলেই নাকি ধ্বংস হয়েছে এই দুই প্রাচীন শহর। বিজ্ঞানীদের কাছে নাকি এর প্রমাণ রয়েছে। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু বিস্ফোরণের ভয়াবহতার ছবি আজও বিশ্ববাসীর চোখে স্পষ্ট। বিস্ফোরণের পরে তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে ক্ষতি হয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তবে বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি পারমাণবিক বিস্ফোরণ আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও ঘটেছে। আমেরিকার এক সংস্থার অধিকর্তা, লেখক এবং বিজ্ঞানী বিলি কারসন দাবি করেছেন, আজ থেকে প্রায় ৩৭০০ বছর আগে পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণেই নাকি ধ্বংস হয়েছিল হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো (Harappa and Mohenjodaro) ঐতিহাসিক শহর দুটি।

রাজস্থানের যোধপুর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে সাড়ে সাত বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোটা আস্তরণ করে রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। বর্তমানে সেই এলাকা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মধ্যে রয়েছে। তেজস্ক্রিয়তার চিহ্ন পেয়েছে বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। সন্ধান মিলতে ইতারা নির্দিষ্ট এলাকায় গবেষণা শুরু করেন। খনন কার্যের পর সেখান থেকে একটি প্রাচীন আবাসন আবিষ্কার করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীদের দাবি, ওই এলাকায় (Harappa and Mohenjodaro) যারা বসবাস করতেন তাদের অধিকাংশই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। এমনকি সুস্থ সন্তানের জন্মের হার ও সেখানে অনেকটা কম ছিল বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। ওই নির্দিষ্ট এলাকাটিতে তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে সুরক্ষার খাতিরে নাকি সেই জায়গায় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে রাখা হয়েছিল। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে ওই এলাকায় পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলেই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিস্ফোরণের ফলে এলাকার বহু অধিবাসী মারা গিয়েছেন। বহু আবাসন ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেছে। ওই এলাকার কাছে ছিল হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো (Harappa and Mohenjodaro) শহর। গবেষকদের মতে হাজার বছর আগে যে পরমাণু বিস্ফোরণ হয়েছিল তার অভিঘাত ১৯৪৫ সালে জাপানের ফেলা আমেরিকা বোমার সমান। ইতিহাসের পাতা থেকে নানান গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ১৯৪৫ সালে নয় পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করা হয়েছিল বহুবছর আগেই। ‌ বিজ্ঞানীদের দাবি মহাভারতেও নাকি এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিস্ফোরণে চারদিক কাঁপানো একটি শব্দ হয় সঙ্গে ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়া। এমন ভাবে পড়ে যায় যে সেগুলি চেনাই মুশকিল হয়। মাঠের পর মাছ খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। আগুনের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন মানুষেরা।

বিজ্ঞানীদের একাংশ দাবি করছেন যে, হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদাড়ো (Harappa and Mohenjodaro) শহরেও পারমাণবিক যুদ্ধ হয়েছিল। পরমাণু বিস্ফোরণের ফলেই নাকি সিন্ধু সভ্যতার একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি খনন কার্যের সময়ে লক্ষ্য করেন যে কঙ্কালের স্তূপ। কঙ্কালগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় কোন দুর্ঘটনার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়নি বহু বছর মাটির তলায় চাপা থাকলেও কঙ্কালের বিশেষ ক্ষয় হয়নি।

রাশিয়ার এক বিজ্ঞানী কঙ্কালগুলি গবেষণা করে জানতে পারেন, এগুলি হাজার হাজার বছরের পুরনো। কঙ্কালের মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতিও দেখতে পান বিজ্ঞানীরা‌। কঙ্কাল গুলির মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে জানা যায় যে তার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৫০ গুণ বেশি। তবে এই পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা কিভাবে সম্ভব এর ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর (Harappa and Mohenjodaro) ধ্বংসের নেপথ্যে যে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ঘটনা রয়েছে, তা মানতে নারাজ বিজ্ঞানীরা।

RELATED Articles