সবাই যে বয়সে কলেজে যায়, সেই বয়সেই একটি মেয়ে বাস ড্রাইভারি (Female Bus Driver) করে অসুস্থ বাবাকে দেখভাল করে। ডানলপ থেকে এসপ্ল্যানেড যাতায়াতকারী 34C রুটের এই বাসটি চালায় একটি মেয়ে। ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে এই বাসটি কিনেছিলেন মেয়েটির বাবা। ২ লক্ষ টাকার শোধ হয়ে গেলেও বাকি রয়েছে আরো বেশ কিছুটা ঋণের পরিমাণ। কিছুদিন আগে এক ইন্সুওরেন্স কোম্পানি মেয়েটিকে খুঁজে বের করে, তার হাতে তুলে দিয়েছে বাকি দু’লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা। বর্তমানে ওই বাসের মালিক ১৯ বছরের মেয়েটি। মেয়েটির নাম কল্পনা। সাহস ও পরিশ্রম দিয়ে মেয়েটির স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠার গল্পটি সকলের কাছে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
মেয়েটি আট বছর বয়স থেকেই বাবার থেকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে। ছোট হাতেই স্টিয়ারিং ধরার (Female Bus Driver) নেশা হয়েছিল কল্পনার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট গাড়ি থেকে বড় গাড়ি তারপর বাবার কেনা বাসের স্টিয়ারিং ধরার ইচ্ছা জাগলো। মেয়ে হয়ে বাস ড্রাইভারি করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল বাবা-মা। ২০১৫ সালে মেয়েটির বয়স তখন ১৪ বা ১৫ তখন বাস এক্সিডেন্টে বাবার পা ভেঙে যায়। অভাবের সংসারে বাস কেনার ঋণ পর্যন্ত বাকি। কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরে এই মাল লোডিং আনলোডিং এর কাজ শুরু করলেন। ওই কিশোরী মেয়ে বাবার সঙ্গে সঙ্গে যেত বাবার সাহায্যের জন্য। তবে সেই পয়সা এর লোনের টাকা শোধ হবে না। সংসারের খরচটুকু ওঠবার মতো পরিস্থিতি হচ্ছিল না।
তারপরেই মেয়ের ইচ্ছা পূরণ হল। সমাজের বাধা পেরিয়ে বাবার বাসের স্টিয়ারিং ধরল (Female Bus Driver) মেয়েটি। মেয়ে কল্পনা নিজের হাতে বাস ড্রাইভারের দায়িত্ব তুলে নিল। কল্পনা খুব কম বয়সেই স্টিয়ারিং আর গিয়ারকে বশ মানাতে পেরেছে। প্রায় দুটো বছর পেরিয়ে গেছে কল্পনার বাস ড্রাইভারি করতে করতে। এই মেয়ের বাস চালানো দেখে তাজ্জব হয়ে যায় বাসের যাত্রীরা। অনেকেই প্রশ্ন করেন রোগা চেহারা আর এই মেয়েটি একটি গোটা বাস সামলাবে কিভাবে। তবে ভরসা রেখেছেন অনেকেই।
কল্পনার মা মঙ্গলা মণ্ডল জানিয়েছেন, মেয়ের বাস চালানোর নেশা যে, পেশায় পরিণত হবে, তা কেউ জানতো না। মেয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ায় গর্বিত বাবা-মা। দুপুর বেলায় মায়ের সঙ্গে স্ট্যান্ডে আসে কল্পনা। বাবা বসে থাকেন ড্রাইভার (Female Bus Driver) এর পিছনের সিটে। মা বসে থাকেন কেবিনে। বাসে উঠে যাত্রীরা অবাক হয়ে যান কল্পনার বাস চালনা দেখে। নামার পথে কেউ আবার লজেন্স, ক্যাডবেরি দিয়ে যায় কল্পনাকে। কেউ কল্পনাকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ দিয়ে যায়।





