Struggle of a Mother: স্বামী বেকার, তাই ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে টোটো চালিয়ে রোজগার করছেন এই ৫৫ বছরের অসহায় মা। বাঁকুড়া শহরের সানবাঁধা এলাকার বাসিন্দা সুচিত্রা মুখার্জী। তিনি পরিচিত পুতুন দি নামেই। আমাদের বাংলার প্রথম মহিলা টোটো চালক সুচিত্রা মুখার্জী (Struggle of a Mother)।
বিগত ৯ বছর ধরে টোটো চালাচ্ছে পুতুন দি। একসময় পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য দপ্তরের অধীনে কাজ করতেন তিনি। সে সময় খাদ্য দপ্তরের ভালো মাইনে ছিল না। তাই সংসার টানতে ও ছেলেকে মানুষ করতে কোন পুঁজি জমাতে পারেননি। পুতুন দির স্বামীর সেই অর্থে কোন রোজগার নেই। পুতুন দির একমাত্র ছেলে অভিষেক কেরালায় উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত । ছেলের স্বপ্ন পূরণ করার তাগিদে বয়সের তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় টোটো চালাচ্ছেন লড়াকু মা (Struggle of a Mother)।
বাঁকুড়া শহরের লক্ষাতোড়া টোটো স্ট্যান্ডে পুতুন দিকে সকলে চেনে। ছোট ছোট করে কাটা চুল, বয়সের ছাপ মুখে স্পষ্ট, পরনে সালোয়ার কামিজ। একটি জরাজীর্ণ টোটো চালাচ্ছেন পুতুন দি। ৩৬৫ দিন যাত্রী নিয়ে এই টোটোতে করেই শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলেন পুতুন দি (Struggle of a Mother)। বর্তমানে অটোর পাশাপাশি টোটোর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের আনাছে কানাচে, অলিতে গলিতে ছুটে বেড়াচ্ছে টোটো। বিভিন্ন জায়গায় টোটো চালকদের মধ্যে যাত্রী নিয়ে রেষারেষি দেখা যায়। সবকিছু উপেক্ষা করে ২০১৫ সাল থেকে টোটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন পুতুনদি (Struggle of a Mother)।
বাঁকুড়ার লক্ষাতোড়া টোটো স্ট্যান্ডের টোটো চালকেরা তাদের সিনিয়র পুতুনদিকে সম্মান করেন। সেই স্ট্যান্ডের নতুন টোটো চালাতে আসা চালকেরা সিনিয়ার পুতুনদির থেকে বিভিন্ন ট্রিকস ও টিপস নিয়ে নেন। পুতনদি বলেন এই টোটো স্ট্যান্ডের ভাইরা তাকে সবসময় সাহায্য করেন। প্রথমের দিকে যাত্রীরা পুতুনদির টোটোতে উঠতে অস্বস্তি বোধ করত। এক সময় বহু কটাক্ষ শুনতে হয়েছে তাকে। সংসারের কথা ভেবে সেসব কথায় কোনদিনও কান দেননি তিনি (Struggle of a Mother)।
স্বামীর রোজগার না থাকলে একটা স্ত্রীর পক্ষে লড়াইটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আজ পুতুনদির যাত্রীরা তার জীবন যুদ্ধ দেখে অনুপ্রাণিত হয়। পুতুনদির স্বপ্ন ছেলে নিজের পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবেই তার পরিশ্রম স্বার্থক। বুঝতে পারছেন একজন ৫৫ বছর বয়সী মায়ের লড়াইটা (Struggle of a Mother)? অভাব মানুষকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়। ছেলের জন্য একা লড়াই করে যাচ্ছেন মা।





