নুন আনতে পান্তা ফুরোত সংসারে, ইটভাটার শ্রমিকের ছেলের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হয়ে ওঠার গল্প চোখ ভেজাবে আপনাদের

Struggle story of IPS officer: বাবা ইটভাটার শ্রমিক, মা লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করে, তাদের ছেলে এই আজ আইপিএস অফিসার। মাত্র ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে সেই ছেলেটা দেখিয়ে দিলেন পরিশ্রম আর মেধার জোরে কোথায় পৌঁছানো যায়। ১৯৯৫ সালে গুজরাটের কানোদর গ্রামে জন্ম হয় সাফিন হাসানের। প্রবল দরিদ্রদের মধ্যে বড় হয়েছেন সাফিন। সাফিন এর বাবা আগে ডায়মন্ড ইউনিটে কাজ করতেন, হঠাৎ করে এসে এই কাজটা চলে যাওয়ায় পেটের দায় ইটভাটায় কাজ করতে শুরু করেন সাফিন এর বাবা (Struggle story of IPS officer)। সাফিনের মা সারাদিন লোকের বাড়ি বাড়িতে পরিশ্রম করে উপরি উপার্জনের জন্য সন্ধ্যেবেলায় সাফিনের বাবাকে নিয়ে একটা দোকানে ডিম বিক্রি করতে শুরু করেন। 

সাফিনের কাছে স্কুল-কলেজের মাইনে দেওয়ার মত পয়সা ছিল না। আজ সেই ছেলেটাই ইউপিএস উৎসাহীদের কাছে আইকন হয়ে উঠেছে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন সাফিন। অভাবের মধ্যেই গ্রামের স্থানীয় স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন। সাফিন যখন ক্লাস ইলেভেনে সেই সময় তাদের বাড়ির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সেই সময় ছেলে স্কুলের মাইনেটুকু দিয়ে উঠতে পারতেন না সাফিনের মা-বাবা। সাফিন যেহেতু ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন তাই স্কুলের শিক্ষকেরা সাফিনের ইলেভেন টুয়েলভ এর ফি মকুব করে দিয়েছিলেন (Struggle story of IPS officer)। 

ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষার পর সাফিন নিজের মেধার জোরে ভর্তি হয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। কিন্তু গরিব ঘরের ছেলের কাছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার টাকা কোথায়? তবুও হাল ছাড়েনি সাফিন। সাফিনের সেই বিপদের সময় দেবদূতের মত পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তার আত্মীয়-স্বজনেরা। সাফিন এর আত্মীয় পরিজনেরাই সাফিনের কলেজের বেতন দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকে সাফিন স্বপ্ন দেখেছিলেন বড় হয়ে তিনি একজন আইপিএস অফিসার হবেন (Struggle story of IPS officer)। সাফিন স্কুলে পড়ার সময় তাদের স্কুলে একবার জেলাশাসক এসেছিলেন, তার থেকে ইউপিএসসি পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সাফিন। তাই অভাবের সংসারে বড় হয়েও সাফিনের লক্ষ্য ছিল আইপিএস অফিসার হওয়ার। 

কলেজ পাশ করে সাফিন শুরু করলেন দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। ২০১৭ সালে সাফিন প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন। সে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় সাফিনের সাথে ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। সেদিন দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন সাফিন। সেদিনের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে পরীক্ষা দিয়ে বেড়ানোর পর সাফিনকে ভর্তি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। এতটাই যখন হয়েছিলেন যে তাকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়েছিল। এমনকি বেশ কিছুদিন ফিজিওথেরাপি চলেছিল সাফিনের। অসুস্থ শরীর নিয়েই লক্ষ্যে অবিচল থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি (Struggle story of IPS officer)।

২০১৮ সালে আবারও ইউপিএস এর পরীক্ষায় বসেন সাফিন। এবারে আর কোন বাধাই আটকাতে পারেনি তাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সারাদেশের মধ্যে ৫৭০ রাঙ্ক করেছিলেন সাফিন হাসান। শুধুমাত্র ইউপিএসসি পরীক্ষা নয় গুজরাটের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাতেও সাফল্য পেয়েছিলেন সাফিন। কঠোর পরিশ্রমের জেরে ২০১৯ সালে জামনগরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিটেন্ডেন্ট পুলিশ পদে নিযুক্ত হন সাফিন (Struggle story of IPS officer)। বর্তমানে সাফিন গুজরাটের আমেদাবাদে একজন ডেপুটি পুলিশ কমিশনের পদে কর্মরত। 

‌

আরও অন্যান্য খবর