Water Bell in Schools: টিফিন ব্রেকের মত এবার পড়বে জলের ঘন্টা। কলকাতায় তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল অবস্থা ছোট থেকে বড়দের। এই গরমে অনেকটা সময়ই স্কুলে কাটান পড়ুয়ারা। সেই সময় তারা যাতে নিয়মিত জল খান এর জন্য অভিনব উদ্যোগ স্কুলের তরফে। স্কুলগুলোতে বাজানো হচ্ছে ওয়াটার বেল (Water Bell in Schools)।
ওয়াটার বেল কি জানেন (Water Bell in Schools)?
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন এই বেল এর অর্থ শিক্ষক থাকাকালীন পড়ুয়াদের জল খেতে হবে। স্কুল চলাকালীন দিনে দুবার করে পড়বে ওয়াটার বেল। এই ওয়াটার বেলের (Water Bell in Schools) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলকাতার অনেক স্কুলেই।
গড়িয়ার বালিয়া নফরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, “তাঁদের স্কুলে বেলা ১২টা ৫ মিনিটে ও আবার দুপুর ৩টে ৫ মিনিটে ‘ওয়াটার বেল’ (Water Bell in Schools) পড়ছে।” ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গার্গী মুখোপাধ্যায় জানান, স্কুলে ঠান্ডা জলের মেশিন আছে। এই সময় নোটিশ দিয়ে অভিভাবকদের জানানো হয়েছে স্কুলে পাঠানোর সময় যেন ছাতা, টুপি ব্যবহার করা হয়। এমনকি ছোট একটি প্যাকেট স্কুল ব্যাগে রাখতে বলা হয়েছে।
সরশুনা এলাকার চিলড্রেন্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন হাইস্কুল ফর গার্লস-এর প্রধান শিক্ষিকা শর্বরী সেনগুপ্ত জানান, গতবছর থেকেই তাদের স্কুলে ওয়াটার বেলের (Water Bell in Schools) ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং সপ্তম পিরিয়ডের নিয়ম করে জল খাওয়ার জন্য ঘন্টা বাজানো হত। স্কুলে মজুত রাখা হয় ওআরএস। এমনকি কাগজের কাপে পড়ুয়াদের ওয়ারএস খেতেও দেওয়া হয়েছিল।
বিভিন্ন স্কুলের তরফে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে জল খাওয়ার এই অভিনব উদ্যোগে খুশি অভিভাবকেরা। অভিভাবকেরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা বাড়ি থেকে জল নিয়ে এলো, প্রায় বেশিরভাগটাই জলের বোতলেই রয়ে যায়। একটুও জল খান না। কই চলাকালীন নেই অনেক বাচ্চাই জল খায় না, ওয়াটার বেল (Water Bell in Schools) বাজলে সে বিষয়ে কিছুটা সতর্ক হয়ে জল খাবে পড়ুয়ারা। কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়াদের কথায়, প্রার্থনার ঘন্টা, টিফিনের ঘন্টা, ছুটির ঘন্টায় তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে তাই এবার জল খাওয়ার ঘন্টা জন্য বেশ খুশি তারা।
বাঙুরের নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান, তারা প্রত্যেক পড়ুয়াকেই মাঝেমধ্যেই জল খাওয়ার কথা মনে করায়। কিন্তু স্কুল ছুটির সময় একাধিক অভিভাবকরা দেখেছেন যে পড়ুয়ারা জল খাননি। এপ্রসঙ্গে সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, “আমাদের স্কুলে পরিস্রুত জলের মেশিন আছে। রয়েছে ঠান্ডা জলের মেশিনও। কিন্তু তা সত্ত্বেও জল খাওয়ার প্রবণতা পড়ুয়াদের মধ্যে বেশ কম। তাই আমরা সোমবার থেকে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পিরিয়ডের মাঝখানে দু’মিনিটের জন্য ওয়াটার বেল বাজানোর (Water Bell in Schools) ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষকেরা সেই সময়ে উপস্থিত থাকছেন। তাঁদের সামনেই যতটা সম্ভব জল খাবে পড়ুয়ারা। সেই সঙ্গে পুরো স্কুল চলাকালীন পড়ুয়ারা যাতে অন্তত দেড় থেকে দু’লিটার জল খায়, সে দিকেও আমরা সবাই নজর রাখব।”





