আজকের দিনে মোবাইল ফোন শুধু আর কথোপকথনের মাধ্যম নয়। অফিসের মিটিং থেকে অনলাইন ক্লাস, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে ব্যাঙ্কের কাজ—সবই মোবাইলের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এমন সময়ে যদি কোনও বড় টেলিকম সংস্থা হঠাৎই পরিষেবা বন্ধ করে দেয়? ভেবে দেখেছেন সেই বিশৃঙ্খলার চেহারাটা?
একটা সময় ছিল যখন ১ জিবি ডেটার জন্য মাসে গুনতে হত শ’খানেক টাকা। এখন দিনে কয়েক টাকারও কমে ২ জিবি ডেটা মিলছে! এত কম দামে পরিষেবা দিতে গিয়ে টেলিকম সংস্থাগুলোর অবস্থা বেহাল। বছরের পর বছর তারা বিপুল অঙ্কের বকেয়া ও সুদের বোঝা বইছে। তবু পরিষেবা চালু রাখতে লড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় Vodafone Idea, Airtel ও Tata Teleservices। তারা আদালতের কাছে আবেদন জানায়, Adjusted Gross Revenue (AGR)-এর ওপর চাপানো সুদ, জরিমানা ও জরিমানার সুদ যেন মকুব করা হয়। কিন্তু বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার বেঞ্চ সেই আর্জিকে “ভুল ধারণা” বলে খারিজ করে দেয়।
Vodafone Idea আগেই জানিয়েছিল, ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কেন্দ্র যদি পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে পাততাড়ি গুটিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হতে পারে। Airtel-এর অবস্থাও একই রকম। Vodafone-এর ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আর Airtel-এর ৩৪ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা বকেয়ার ভারে তারা কার্যত নুইয়ে পড়েছে। জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালের দিকেও তাকিয়ে আছে সংস্থাগুলি।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ট্যাক্সের নামে পুলিশ আদায় করে টাকা!’ প্রকাশ্য সভায় অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় প্রশাসন !
কিছু মাস আগেই Vodafone Idea-এর ৩৬ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ঋণকে অংশীদারিত্বে পরিণত করেছে কেন্দ্র। কিন্তু বারবার বকেয়া মকুবের দাবি আদতে কেন্দ্রের উপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ না করে, এখন এই সংস্থাগুলি সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কেন্দ্র আরও কতটা এগিয়ে এসে সহায়তা করবে? আর এই চাপ সহ্য করে কতদিন টিকে থাকবে টেলিকম পরিষেবার এই ভিত্তি স্তম্ভগুলি?





