বাংলার এক ট্যাক্সিচালক (Taxi Driver) তৈরি করলেন স্কুল ও অনাথ আশ্রম। তার এই কাজে মুগ্ধ অমিতাভ বচ্চন থেকে আমির খান। টাকার অভাবে ক্লাস থ্রিতেই ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা, রাস্তায় নেমে ভিক্ষে করে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। এভাবেই চলতে চলতে একদিন ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেছিলেন জালালউদ্দিন। সেই মানুষটাই ট্যাক্সি চালিয়ে গড়ে তুললেন স্কুল আর অনাথ আশ্রম।
বয়স ৭০ পেরিয়েছে তবু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে হলুদ ট্যাক্সি নিয়েই ঘোরেন তিনি। দিনের পর দিন গড়ায় ট্যাক্সি চালিয়ে, শরীরে ক্লান্তি আসলেও জালালউদ্দিন (Taxi Driver) থামেননি। ট্যাক্সি নিয়ে রাজপথে ছুটে চলতে চলতে দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন আরো কিছু শিশুকে মানুষ করে তোলার। সমাজকে শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখেন প্রবীণ ট্যাক্সি চালক গাজী জালালউদ্দিন (Taxi Driver)। তার জন্ম হয়েছিল নিতান্ত এক গরীব পরিবারে, এখানে দুবেলা দুমুঠো খাবার পাওয়া যেত না ঠিকমত। ছোটবেলা থেকে এ জালালউদ্দিনের (Taxi Driver) ইচ্ছে ছিল লেখাপড়ার। সেইমতো স্কুলে ভর্তি হলেন, পড়াশোনা করতে শুরু করলেন। জালালউদ্দিন (Taxi Driver) তখন ক্লাস টু, ক্লাসে ফার্স্ট হলেন। তবে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি নিজের পড়াশোনা। সেখানেই থামতে হয়েছিল তাকে।
ওই ছোট বয়সে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় আসেন তিনি। কাজের অভাবে শুরু করলেন ভিক্ষা করতে। প্রথম প্রথম ভিক্ষা করতে লজ্জা করলেও পেট সে কথা শোনেনি । একটু বড় হলে এন্টালির চত্বরে টানা রিক্সা চালাতে শুরু করলেন জালালউদ্দিন (Taxi Driver)। রিক্সা থেকে ট্যাক্সি চালাতে শুরু করলেন আরো বেশ কয়েক বছর পর। আগে ট্যাক্সি ধোয়া মোছার কাজ করতেন তিনি, তা থেকেই ধীরে ধীরে ট্যাক্সি চালাতে শিখলেন। দিনের শেষে মালিককে টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজের সম্বলে রাখতেন।
জালালউদ্দিনের (Taxi Driver) অল্প সম্বল শুধু একার জন্য নয়, এই সমাজের জন্য সম্বল করছেন তিনি। তার স্বপ্ন ছিল একটা স্কুল বানানোর। ট্যাক্সিতে ওঠা যাত্রীদের বলতেন তার এই স্বপ্নের কথা, এসব শুনে কেউ হাসবেন আবার কেউ তাচ্ছিল্য করতেন। কোন কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। জালাল উদ্দিনের লড়াই ছিল নিজের থেকেও বেশি সমাজের জন্য। তার মতো করে যাতে আর কাউকে কষ্ট পেতে না হয়। নিজের উদ্যোগে দুটি স্কুল গড়ে তুললেন জালাল উদ্দিন। তার মধ্যে একটি স্কুল ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর অবধি। অপরটি ফাইভ থেকে ক্লাস টেন। পাশাপাশি গড়ে তুললেন একটি অনাথ আশ্রম। আজ জালালউদ্দিন (Taxi Driver) কম করে ৫০০ ছাত্রছাত্রীর ভরণ পোষণ জোগান। ওই বাচ্চা গুলোর ভরসার জায়গা আর জালাল উদ্দিন সাহেব।
তার এই স্বপ্ন নিয়ে জালাল উদ্দিন পৌঁছেছিলেন কোন বানেগা ক্রোড়পতির মঞ্চে। তারই সংগ্রামের কথা শুনে কুর্নিশ জানান তাকে। স্বয়ং আমির খান ও অমিতাভ বচ্চন তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সেই টাকা দিয়ে জমি কিনে আরো একটি বড় স্কুল তৈরির কাজ শুরু করলেন জালালউদ্দিন (Taxi Driver)। এর পাশাপাশি তিনি শুরু করেছেন সুন্দরবন ড্রাইভিং সমিতিও, যেখানে অঞ্চলের বেকার যুবকদের বিনা পয়সায় ড্রাইভিং শেখানো হয়। জালাল উদ্দিন একা সংগ্রাম করছেন না তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন তার স্ত্রী তাসলিমাও।
এরপরে যদি রাস্তায় কোনো ট্যাক্সির গায়ে লেখা দেখতে পান, ‘The earning by this taxi is used for the student of Sundarban orphange school’ গিয়ে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে না পারলেও শুভেচ্ছা জানিয়ে আসবেন জালালউদ্দিনকে (Taxi Driver) ।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার