লর্ডসে তৃতীয় দিনের শেষে নাটকীয়তা: শেষ ওভারের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল টিম ইন্ডিয়া, শুবমন গিল বনাম জ্যাক ক্রলি দ্বন্দ্বে কী ঘটেছিল?

লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষটা যেন একদম সিনেমার মতো। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার ঠিক পরেই ঘটল এক উত্তেজনাকর ঘটনা। ইংল্যান্ডের ওপেনার জ্যাক ক্রলিকে উদ্দেশ্য করে আচমকাই চিৎকার করে উঠলেন শুবমন গিল। অভিযোগ? সময় নষ্ট করছেন ক্রলি। চারদিকে চর্চা শুরু হতেই এবার মুখ খুলল টিম ইন্ডিয়া।

দিনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বিষয়টা ব্যাখ্যা করলেন কেএল রাহুল। তাঁর স্পষ্ট কথা, “ছয় মিনিট বাকি ছিল। এটা তো অজানা নয় যে ছয় মিনিটে যে কোনও দলই দু’টি ওভার করার চেষ্টা করবে। কিন্তু শেষটা একটু নাটকীয় হয়ে গেল।”

কী ঘটেছিল মাঠে?

ভারতের ৩৮৭ রানে ইনিংস শেষ হওয়ার পর ঠিক ইংল্যান্ডের রানকেই ছুঁয়ে ফেলেছিল তারা। যদিও আবারও নজরে এল ভারতের টেল এন্ডারদের ব্যর্থতা — আগের টেস্ট, লিডসেও এই নিয়েই সমালোচনা হয়েছিল।

তবে ছয় মিনিট হাতে থাকায় ভারত তৎপরভাবে ফিল্ডিং করতে নামে। বুমরাহ হাতে তুলে নেন নতুন বল, আর মুখোমুখি হন জ্যাক ক্রলি। শুরুতেই উত্তেজনার সূত্রপাত — তৃতীয় বল করার সময় হঠাৎ করে সরে দাঁড়ান ক্রলি, দেখিয়ে দেন সাইটস্ক্রিনে সমস্যা। এতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ভারতীয় শিবির। গিল তো রেগে গিয়ে চিৎকার করেই বসেন।

এরপর ফের দু’ বলের মধ্যে আরও নাটক — বুমরাহর বল ডিফেন্স করে সঙ্গে সঙ্গে গ্লাভস খুলে ফেলেন ক্রলি, ডাকেন ফিজিওকে। বলেন হাতে ব্যথা পেয়েছেন। সেটা দেখেই আবারও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গিল, গিয়ে সরাসরি কিছু একটা বলেন ক্রলিকে — ফের শুরু হয় বাকবিতণ্ডা।

রাহুল কী বললেন?

কেএল রাহুলের মতে, শেষ ওভারে উইকেট পাওয়ার জন্যই উত্তেজনা ছিল ভারতীয় দলে। তিনি বলেন, “আমরা জানি দিনের শেষে দুটো ওভার খেলতে নামা কতটা কঠিন একজন ব্যাটারের জন্য, যখন গোটা দিন মাঠে কাটিয়ে এসেছে দল। আমরা চাইছিলাম অন্তত একটা উইকেট তুলে নিতে, যাতে পরের দিনটা ভালোভাবে শুরু করতে পারি।”

তবে একইসঙ্গে তিনি ক্রলির প্রতিক্রিয়াকে ব্যাটারের দৃষ্টিকোণ থেকেও বুঝতে পারছেন বলে জানান। “আমি নিজেও একজন ওপেনার, জানি ওই মুহূর্তে ঠিক কী অনুভব হয়। সবাই জানে কী হচ্ছিল, আমি বুঝি। ম্যাচের অংশ এটা,” বলেন রাহুল।

আরও পড়ুনঃ TMC Leader Murder: বাড়ির ৫০০ মিটার দূরেই লা*শ! ভাঙড়ের পর বীরভূমে ফের খুন শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা!

শেষ পর্যন্ত, উত্তেজনার আবহ হলেও ভারতের মনোভাব স্পষ্ট — শেষ মুহূর্তের চাপ এবং ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিকতাই এমন প্রতিক্রিয়া এনেছে। এখন দেখার, রবিবার সকালে কীভাবে শুরু করে দুই দল, এবং এই ‘শেষ ওভারের নাটক’ আদৌ ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে কি না।

RELATED Articles