ভারত-পাক সম্পর্ক বরাবরই টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে চলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুরের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, পাকিস্তান কি চূড়ান্ত মরিয়া হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার কথা ভেবেছিল? যদিও এই নিয়ে আগে ইসলামাবাদ মুখ খোলেনি। এবার সেই চুপিসারেই মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
ইসলামাবাদের তরফে বারবার ভারতের দিকে আগ্রাসনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকই, তবে শনিবার ছাত্রদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় শাহবাজ জানান, “পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবেই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। এটি কেবলমাত্র দেশের প্রতিরক্ষার জন্য, কোনওভাবেই আক্রমণের জন্য নয়।” যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ এই বক্তব্যকে একপেশে এবং রাজনীতিক কৌশল বলে মনে করছেন।
সেই সময়, অর্থাৎ ১০ মে-র আশেপাশে খবর রটে যায় যে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। বলা হয়, ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি’-র সেই জরুরি বৈঠকে সামরিক এবং অসামরিক শীর্ষ কর্তাদের ডেকে পাঠানো হয়। এই কমিটির হাতেই রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষমতা। পরে অবশ্য ইসলামাবাদ এই দাবি নস্যাৎ করে।
এই প্রথমবার পাক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করলেন যে অপারেশন সিঁদুরে তাঁদের ৫৫ জন সেনা মারা গিয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের দাবি ছিল, এই সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি। এমনকী মার্কিন রাষ্ট্রপতির একটি মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে যে পাকিস্তান সত্যিই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছিল। তবুও ইসলামাবাদ আজও সেই কথা প্রকাশ্যে মানতে নারাজ।
আরও পড়ুনঃ লর্ডসে তৃতীয় দিনের শেষে নাটকীয়তা: শেষ ওভারের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল টিম ইন্ডিয়া, শুবমন গিল বনাম জ্যাক ক্রলি দ্বন্দ্বে কী ঘটেছিল?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শাহবাজ শরিফের এই বক্তব্য শুধুই লোকদেখানো। কারণ, আন্তর্জাতিকভাবে কোনও দেশ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। তাই শাহবাজের বক্তব্য শুধুই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপে পড়েই ইসলামাবাদ হয়তো অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করেছিল। এখন শুধু আন্তর্জাতিক মহলের চোখ এড়াতেই শান্তির বুলি আওড়ানো হচ্ছে।





