লাল-হলুদ জার্সিতে একসময় ময়দান কাঁপিয়েছেন, নাকানিচোবানি খাইয়েছেন বিপক্ষকে, অভাবের তাড়নায় সেই ইস্টবেঙ্গল তারকা আজ জুতো সেলাই করছেন? এ কী অবস্থা?

ভারতীয় ফুটবলে বাংলা যে এক অন্য জায়গা করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান ক্লাবে খেলেছেন অগুনতি বিদেশী তারকা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সকলের স্মৃতিতে এক অন্য জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাপানের রিউজি সুয়েকা।

বাংলার ফুটবল বা কলকাতার ময়দানে রিউজি সুয়েকার অবদান অনস্বীকার্য। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল, দুই ক্লাবের হয়েই খেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালে মোহনবাগান জার্সি পরে প্রথম ভারতের মাটিতে পা দেন তিনি। এরপর তিনি কেরিয়ারের বাকি সময়টা ভারতেই কাটান। মাঝমাঠ বল নিয়ে সুয়েকার দৌড় অনেক বিপক্ষকে নাকানিচোবানি খাইয়েছেন।

এরপর ২০১৩ সালে কলকাতায় এসে তিনি যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। ২০১৩-১৪ মরশুম লাল হলুদে খেলে ১৮টা ম্য়াচে ৪টে গোল করেছিলেন তিনি। নিজের কেরিয়ারে শেষ ক্লাব ছিল তাঁর পুনে এফসি। ২০১৪ সালে সেই ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন সুয়েকা। এরপর ২০১৫ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেন এই ফুটবল তারকা।

কিন্তু তারপর? তারপর কোথায় হারিয়ে গেলেন এই ফুটবল তারকা? কী খবর তাঁর? এখন কী করছেন এই ৪৪ বছর বয়সী বিদেশী ফুটবলার? জানা গিয়েছে, রিউজি সুয়েকা নাকি এখন জুতো সেলাই করেন। সত্যিই কী তাই? অভাবের তাড়নায় পেট চালানোর জন্য এমন পেশা বেছে নিয়েছেন এমন প্রতিভাবান একজন তারকা?  

না, পেটের তাগিদে বা অভাবে পড়ে এই জুতো সেলাইয়ের কাজ বেচে নেন নি এই জাপানি ফুটবলার। নিজের এই জুতো সেলাই করার পেশার নেপথ্যে কারণ হিসেবে রিউজি সুয়েকা জানান, “ভারতে আসার পর একটা বিষয় আমাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল। এখানকার মানুষজন জুতো সেলাই করে সেটা আবার পরার যোগ্য করে তোলেন। বিষয়টা আমার বেশ ভাল লেগেছিল। আমি মাস কনজাম্পশনে একেবারেই বিশ্বাস করি না। আমার কাছে কোনও জিনিস যতক্ষণ না পর্যন্ত পরার অযোগ্য হচ্ছে, ততক্ষণ সেটা আমি বাতিল করতে পারি না। জাপানের বহু মানুষ এই নীতিতে বিশ্বাস করেন”।

Ryuji Sueoka, cobbler, retirement, East Bengal, footballer, poverty

আরও পড়ুনঃ খাতা না দেখেই দেওয়া হয়েছে নম্বর, ফের তুমুল বিতর্কের মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিক্ষোভ পড়ুয়াদের 

তিনি আরও জানান, “চারদিকে কত মানুষ দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সেইসব মানুষদের জন্য কিছু করব ভেবেছিলাম। তারপর ছেঁড়া-ফাটা জুতো নিয়ে আসি। সেগুলো সেলাই করি। তারপর সেটা কোনও উঠতি ফুটবলারের কাছে চলে যায়। এভাবেই সমাজের উন্নতিতে কিছুটা সাহায্য আমি করতে চেয়েছিলাম”।

RELATED Articles