শতবর্ষের গৌরবের মধ্যে লাল-হলুদ শিবিরে একটাই চিন্তা ছিল, যে এই বছর আইএসএল (ISL) খেলা হবে কিনা! কিন্তু বুধবারই কেটে গিয়েছে সেই সব চিন্তা, ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) সমর্থক ও কর্তাদের অপেক্ষার অবসান হয়ে অবশেষে লাল-হলুদ শিবিরে এসেছে ইনভেস্টর। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থা শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গলের নতুন ইনভেস্টর। এই বিষয়ে এবার মতামত শোনালেন প্রাক্তব ফুটবলাররা।
অনেকেই মনে করছেন ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) আইএসএল (ISL) খেলার পথ খুলে যাওয়ায় এতে লাভ আসলে গোটা টুর্নামেন্টেরই। আইএসএল (ISL) গ্যালারিতে লাল-হলুদ মশাল জ্বললে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) সহ সেই টুর্নামেন্টেরও গর্বের কারণ হবে। সেই সঙ্গে এটিকে-মোহন বাগানের (ATK Mohun Bagan) সঙ্গে ডার্বি তো আছেই। অনেকেই মনে করছেন মোহন বাগানের (ATK Mohun Bagan) সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) এই বছর না খেললে আইএসএলের (ISL) উজ্জ্বল দিকটিই ধরা পড়ত না।
এই বিষয়ে প্রাক্তন ফুটবলার তথা সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Prasun Banerjee) গলাতেও আবেগ। তিনি বললেন, “ভারতবর্ষের ফুটবল এই দুটো টিমকে বাদ দিয়ে হয় না। আইএসএলে সব বানানো টিম। শুনতে খারাপ লাগলেও কথাটা সত্যি। আমি তো চাইব, আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের সঙ্গে মহামেডানকেও নেওয়া হোক। আমি নিশ্চয়ই মোহনবাগানের লোক, কিন্তু ফুটবল বাঁচাতে গেলে আবার বলছি মহমেডানকেও দরকার।”
ইস্টবেঙ্গলের আসিয়ান জয়ী কোচ সুভাষ ভৌমিক বললেন, “বিষয়টা বাংলা ফুটবলের স্বার্থে নয়, ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে দেখছি। ভারতীয় ফুটবলের শুরুর সময় ধরে মোহনবাগান, মহামেডান স্পোর্টিং ও ইস্টবেঙ্গল, এই তিনটে দল লিগ্যাসি বহন করছে। একটা ক্লাব আগেই আইএসএলে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল। আর একটা দল পেতে চলেছে। আমি ৩২ দিন আগে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, আশা করছি আইএসএলে খেলবে দল। আর সেটাই ঘটেছে। কারণ, ডার্বির মাহাত্ম্যটা আইএসএলের মাথায় যাঁরা আসেন, তাঁরা বোঝেন না বলে বিশ্বাস করি না।”
ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) সহকারী সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বললেন, “এখনও এক-দুই শতাংশ কথা বাকি রয়েছে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে। তাই এগুলো নিয়ে কিছু বলব না। তবে আমাদের তরফে মরিয়া চেষ্টা ছিল শুরু থেকে। এখন যে ভাবে ফিফা বা এএফসি ফুটবল এনডোর্স করছে, তাতে লগ্নিকারী ছাড়া পৃথিবীতে কোথাও চলছে না। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মূলধন তাদের সমর্থকরা। সমর্থকদের জন্যই এগিয়ে আসছে সংস্থা। এই সমর্থনটাই সবাই চাই।”





