নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে রামের সমস্ত গুণই রয়েছে, সরাসরি না বললেও লোকসভায় দাঁড়িয়ে একথা ঠিকই ঠারে ঠারে বোঝালেন অমিত শাহ

না, সরাসরি তুলনা করেন নি তিনি। কিন্তু লোকসভায় দাঁড়িয়ে নিজের নানান বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঠারে ঠারে ঠিকই বুঝিয়ে দিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে প্রভু রামের সমস্ত গুণই রয়েছে। অনেক বছর ধরেই দেশ এমনই ‘সর্বগুণসম্পন্ন’ রাষ্ট্রনায়কের অপেক্ষাতেই ছিল। রামমন্দিরের উদ্বোধন ও রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা মোদী ছাড়া সম্ভব ছিল না বলেই দাবী শাহ্‌’র।

রামমন্দিরের উদ্বোধনের জেরে কী ভারত সংখ্যাগুরুবাদের দিকেই একধাপ এগিয়েছে?   

রামমন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই একটা প্রশ্ন বারবার উঠে এসেছে যে রামমন্দিরের উদ্বোধনের ফলে জের ভারত আরও এক ধাপ সংখ্যাগুরুবাদ ও একনায়কতন্ত্রের দিকে এগোল? তবে এদিন শাহ লোকসভায় দাঁড়িয়ে বললেন যে কোনও দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কেই নিজের ধর্ম বিশ্বাসের জন্য এতগুলো বছর অপেক্ষা করতে হয়নি। রামমন্দির নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছিল ১৫২৮ সালে আর আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল ১৮৫৮ সালে। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি সেই লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে।  

গতকাল, শনিবার লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদ অধিবেশনের শেষ দিন ছিল। এদিন লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষেই বিজেপি নেতারা রামমন্দির নির্মাণ ও রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আনেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে সংসদের অন্দরে ভাবাবেগ টেনে আনা ও রামমন্দিরের প্রতিষ্ঠা যে মোদী সরকারেরই সাফল্যের অংশ, তা বোঝানোর জন্যই এই আলোচনা করে বিজেপি নেতৃত্ব।    

এদিন দুই কক্ষেই রামমন্দির নিয়ে আলোচনা হয় সংসদে। রামমন্দিরের জন্য নরেন্দ্র মোদীরই গুণগান গাওয়া হয় এদিন। রামমন্দিরে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা আসলে যে নরেন্দ্র মোদীকে এক ‘সর্বগুণসম্পন্ন’ নেতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে, তেমনটাই বুঝিয়ে দিতে চান এদিন শাহ।

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চৈতন্যদেব থেকে রামানন্দের মতো অনেকেই এ দেশে ভক্তি আন্দোলন করেছেন। তাতে দেশ মজবুত হয়েছে। সনাতন ধর্মের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। ভক্তি আন্দোলনের পুরোধারা জনমানসকে দিশা দেখিয়েছেন। কিন্তু ভারতের হাজার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে আর কোনও শাসক বা জনপ্রতিনিধি এ ভাবে ভক্তি চেতনার পুনর্জাগরণে নেতৃত্ব দেননি। রামমন্দিরের ভূমিপুজো থেকে মন্দিরের নির্মাণ ও রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে কাজ নরেন্দ্র মোদী করেছে”।

তাঁর কথায়, “লালকৃষ্ণ আডবাণী রামমন্দির নিয়ে জনজাগরণ ঘটিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদী ভক্তি চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছেন”। এদিন শাহ বেশ ভালোভাবেই নিজের বক্তব্য দিয়ে এটা বুঝিয়ে দেন যে নরেন্দ্র মোদী একাধারে সুশাসক তো বটেই, এরই সঙ্গে তিনি নিজের ঋষির মতো আধ্যাত্মিক চেত্নাও দেশের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছেন।  

আরও অন্যান্য খবর