বিগত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি। রাজ্য-রাজনীতিতে পড়েছে এর প্রভাব। মহিলাদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল সন্দেশখালি থেকে। এবার শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগও উঠল। মায়ের কোল থেকে ৭ মাসের শিশুকে কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, শনিবার সন্দেশখালি গিয়েছেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালিতে শিশুর উপর অত্যাচারের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। এক শিশুকে তার মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এরপরই এই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন।
আজ, শনিবার সন্দেশখালিতে গিয়েছেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস, পরামর্শদাতা সুদেষ্ণা রায়-সহ রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের ছ’জন প্রতিনিধি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তারা। মায়ের কোল থেকে শিশুকে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। সুদেষ্ণা রায় জানিয়েছেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় নিগৃহীতা বলেন, “আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, সেগুলো সত্যি বলেছে। সেদিন আমাদের বাড়িতে পুলিশের ড্রেস পরা লোক এসেছিল, মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। সবার পায়ে বুটও ছিল না, চপ্পলও ছিল। আমার ফোনে ২ জনের ছবি রয়েছে। সন্দেশখালির বড়বাবু ও হিঙ্গলগঞ্জ থানার মেজোবাবু ছিলেন। লাথি মারতে গিয়ে একজনের প্যান্টও ছিড়ে যায়। গ্রামবাসীরা যখন এসে প্রতিবাদ করেন, তখন ওরা এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছিল। আমার বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে দেয়। আমার স্বামী বলল, যা দরকার, ক্যাম্পে গিয়ে বলব”।
আজ সন্দেশখালিতে এই ঘটনার তদন্তে যান রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা। চেয়ারপার্সন সুদেষ্ণা রায় বলেন, “আমার কাছে খবর এলে, তবেই তো সক্রিয় হব। সাত দিন আগে আমাদের কাছে কোনও খবর আসেনি। যখন আমাদের কাছে খবর আসে, তখনই আমরা সক্রিয় হই। আমাদের আগে কাল বিকালে খবর এসেছে”।
আক্রান্ত শিশুর মা বলেব, “এখন তো বাড়ি থেকে বেরোতেই পারছি না। মুখ খুললে বাচ্চাকে নিয়ে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশই তো সন্ত্রাস করছে। বিশ্বাসটা কাকে করব? শিশু সুরক্ষা কমিশনকে সামনে পেলে অবশ্যই সবটা বলব। আমার স্বামী ঘরছাড়া। ও ঘরে এলে খুন করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে”।
শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যের বক্তব্য, “আমরা যেটা শুনেছি। ওঁ জানলার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন। টানাটানি হচ্ছিল, তখন বাচ্চাটা কোল থেকে পড়ে যায়। ওঁর স্বামী এক হাত দিয়ে বাচ্চাটাকে ধরে নেন। ওঁ এখন বাচ্চাটাকে নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। আমরা ডিএম-কে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসন এসপি-র সঙ্গে কথা বলেছেন, CMOH-এর সঙ্গে কথা বলেছেন”।





