জল্পনাই সত্যি! কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন কৌস্তভ বাগচি, লোকসভা ভোটের প্রার্থীও হবেন নাকি হাত শিবিরের প্রাক্তন নেতা?

জল্পনাই সত্যি হল অবশেষে। কংগ্রেস ছাড়ার পরদিনই বিজেপিতে যোগ দিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখপাত্র তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। আজ, বৃহস্পতিবার বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন কৌস্তভ বাগচি।

গতকাল, বুধবার সকালেই জানা যায় যে কংগ্রেস ছেড়েছেন কৌস্তভ বাগচি। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একটি তিনপাতার চিঠি পাঠান তিনি। তাতেই তিনি কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য পদ ছাড়ার কথা জানান। সাম্প্রতিককালে দলের সঙ্গে সেভাবে বনিবনা হচ্ছিল না তাঁর। দূরত্ব বেড়েছিল। নানান সময় দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কৌস্তভ কংগ্রেস ছাড়ার পরই জল্পনা শুরু যে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সেই জল্পনাই সত্যি হল। হাত শিবির ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গেরুয়া শিবিরের হাত ধরলেন কৌস্তব বাগচি।

কী জানালেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা?

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে কৌস্তভ বললেন, “মানুষের চাহিদা পূরণ না করলে তো রাজনীতি করার কোনও অর্থ নেই। যেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের গুরুত্ব নেই। সেখানে সে দলের সঙ্গে থাকার কোনও অর্থ নেই। সন্দেশখালি নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব চুপ। আমার মনে হচ্ছে দিনের পর দিন কংগ্রেস যেভাবে তৃণমূল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, সেখানে আত্ম মর্যাদা নিয়ে সেই দলে থাকা যায় না”।

এখানেই থেমে থাকেন নি তিনি। কৌস্তভের সংযোজন, “সন্দেশখালিকাণ্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অথচ কংগ্রেসের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষের জায়গা আছে। কেউ বলছে কেউ বলছে না। আমার মনে হয় এখানে থাকাটা নিজের আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমঝোতা করা। এই তৃণমূলের প্রতি নরম অবস্থান নিয়ে রাজ্যে তৃণমূলকে উৎখাত করা যাবে না”।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কৌস্তভ বাগচি। গত বছর গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে নানান মামলা রুজু করেছিল রাজ্য পুলিশ। জামিন পেয়ে মাথা মুণ্ডন করেন তিনি। শপথ নেন, যতদিন না পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছেন, ততদিন তিনি চুল রাখবেন না। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে হারাতে জোট বেঁধেছে নানান রাজনৈতিক দল। তাতে রয়েছে তৃণমূল ও কংগ্রেসও। জাতীয় স্তরে হলেও তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের এই জোট মানতে নারাজ ছিলেন কৌস্তভ। তা নিয়ে সরবও হয়েছিলেন তিনি। এবার অবশেষে কংগ্রেসের যাত্রাপথ শেষ করে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে নতুন যাত্রা শুরু করলেন কৌস্তভ বাগচি।

আরও অন্যান্য খবর