স্টার জলসা খ্যাত ধারাবাহিক অনুরাগের ছোঁয়া। সেই ধারাবাহিকেই খলনায়িকার চরিত্রে দেখা যায় অহনা দত্তকে। তার জীবনের প্রথম ধারাবাহিকেই দর্শকদের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন অভিনেত্রী। খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন আগেই। অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো নৃত্যশিল্পী। তার অভিনয়ের জোরেই রাজ চক্রবর্তী অভিনীত নতুন ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। এই ছবিতে তার সাথে কাজ করবেন মিঠুন চক্রবর্তীর ঋত্বিক চক্রবর্তী আরো জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীরা। ছোট পর্দা পেরিয়ে তিনি এখন পা রেখেছেন বড় পর্দায়।
তার জীবনের প্রথম ধারাবাহিক থেকেই খুঁজে পেয়েছেন বসন্ত। অনুরাগের ছোঁয়ার হাত ধরেই প্রথম প্রেমকে স্বাগত জানিয়েছেন তার জীবনে। অনুরাগের ছোঁয়ার ধারাবাহিকের মেকআপ শিল্পী দীপঙ্কর রায়ের হাত ধরেই অহনার জীবনে এসেছে অন্য বসন্ত। স্বাভাবিকভাবে বলাই যায় এই বসন্ত আর পাঁচটা বসন্তের মতো কাটবে না অভিনেত্রীর। মনের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বসন্ত উদযাপন করতে ব্যস্ত থাকবেন তিনি। কেমন ভাবে দোল সেলিব্রেট করবেন অভিনেত্রী জানালেন সাক্ষাৎকারে।
মনের মানুষকে নিয়ে বসন্তে প্রথমবার কি পরিকল্পনা অভিনেত্রীর জানাচ্ছেন তিনি। অহনা দত্ত বলেন, “দীপঙ্করের সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় দোল। আমরা এবার ওর (দীপঙ্কর রায়ের) দিদির বাড়িতে যাচ্ছি, বারুইপুরে। ওখানেই দোল কাটাব। ওদের বাড়ির সামনে মাঠ আছে। সেখানেই আবির খেলা হবে, রং খেলা হবে। তারপর পিকনিক হবে আর কি! ওর দিদির পরিবারের লোকজন থাকবে, আর আমি-দীপঙ্কর। ওইদিন পুরো ছুটি কাটাব।”
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে অহনার ছোটবেলা দোল খেলার স্মৃতি। অভিনেত্রী বলেন, “আমি ছোট থেকেই রং খেলতে খুব ভালোবাসি। দোলের দিন রেডি হয়ে থাকতাম রং খেলার জন্য। রাস্তা দিয়ে যে যাবে তাকে পিচকিরি দিয়ে রং দেব। কোনও গাড়ি গেলেও পিচকিরি দিয়ে রং দিতাম। তারপর যখন একটু বড় হলাম, ফ্ল্যাটে সকলে মিলে থাকতাম তখন তো মাথাফাটা রং, ব্যাটারির কালি, ডিমের কুসুম, কিছুই বাদ যাইনি। সবকিছু দিয়েই রং খেলতাম। এরপর যখন স্নানে যেতাম, তখনই টের পেতাম কী হয়েছে! বোতল বোতল শ্যাম্পু ঢেলেও কিছুই হত না। (হাসি)। তারপর রং মাখা গায়েই পরদিন স্কুলে যেতাম। গায়ে-মুখে, গোলাপি, সবুজ, আরও নানান রং লেগে থাকত বেশকিছুদিন।”
দোল নিয়ে আফসোস রয়েছে অভিনেত্রী। ছোটবেলার মতো রং খেলতে পারবেন না। তিনি জানিয়েছেন, “তবে আগের মতো ওভাবে তো আর রং খেলতে পারব না। কারণ, এখন শ্যুটিং থাকে। তাই অরগ্যানিক যে আবির হয়, সেটা দিয়েই খেলব। আমার মনে হয় রং খেলা বিজ্ঞানসম্ভত, যদি সঠিকভাবে রং মাখা যায়।”
বসন্ত মানেই প্রেম। ছোটবেলায় মিষ্টি প্রেমের স্মৃতি নিয়ে অকপট অহনা। তিনি জানিয়েছেন, “ছোটবেলায় তো প্রেম করার সুযোগই পাইনি। কারোর সঙ্গে দেখা করব, সেই পরিস্থিতিই ছিল না। মা থাকত সঙ্গে সবসময়। আমি যখন প্রেম বুঝেছি, তখন সেটা হয়ে গেছে। আর আমি দীপঙ্করের সঙ্গে থাকতেও শুরু করে দিয়েছি।”
দোলে ছোটবেলার স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত। উঠে এসেছে তার দাদুর বাড়ির কথা। উঠে এসেছে স্কুলের বসন্ত উৎসবের কথা। অহনা বলেন, “ছোটবেলায় যখন হাবরায় দাদুর বাড়িতে যেতাম, তখন তো আমি ভ্যানে করে রং গুলে বের হয়ে পড়তাম। ভ্যান যাচ্ছে আমিও রং খেলছি, পিচকিরি মারছি। নাচের ক্লাসের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হত। এবারও এমনই একটা দোল উৎসবের নিমন্ত্রণ আছে। সেখানে যাব ভেবেছি। পরে আমার ডান্স অ্যাকাডেমি বড় হলেও আমারও এধরনের অনুষ্ঠান করার ইচ্ছে রয়েছে।”
মাকে যে বেশ ভালোই ভয় পান অভিনেত্রী তা ভালোই বোঝা গেল। কখনো ভাঙ টেস্ট করেছেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “না না ওরে বাবা। সবসময় মা থাকত। তারপর লোকজনকে যেভাবে ভাং খেয়ে উল্টে পড়ে থাকতে দেখেছি। তাতে তখন ভয়ই লাগত…। তবে অনেককে খেতে দেখেছি অবশ্য…।”






