করোনা আমাদের সম্মিলিত লড়াই, সারা বিশ্বকে একত্রিত হওয়ার বার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এখন আতঙ্কের ওপর নাম করোনা। বিশ্ব জুড়ে এই আতঙ্কে কম্পিত ৮ থেকে ৮০। আর এই লড়াই যে কারো একার নয় সেই বার্তাই দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এই সম্মিলিত লড়াই হবে মুক্তির একমাত্র পথ। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে কীভাবে বিশ্বের সব সম্প্রদায়কে একসূত্রে বেঁধে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি আমরা, জটিল সময়ে এই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল ট্রেডস ঘেব্রেইসাস এর বার্তাই যেন নতুন আশ্বাস জাগল সবার মনে।

টুইটার বার্তায় তিনি সকলকে একসঙ্গে এই মহামারীর মোকাবিলা করার বার্তা দিয়েছেন। ঘেব্রেইসাস বলেছেন, বিশ্বের সব দেশের উচিত একত্রে মিলে একটা পরিকল্পনা নিয়ে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমনের সাথে লড়াই করা। অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর পাশেও দাঁড়াতে হবে সকলকে। রাজনীতি ভুলে মানবতার হাত বাড়াতে হবে সকলের। তাহলেই এই মৃত্যুমিছিলকে আটকানো সম্ভব হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে আগেই বিশ্বজোড়া মহামারী ঘোষণা করেছে হু। গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা চার লক্ষের বেশি। মৃত্যু প্রায় ১৯ হাজার । হু কর্তা বলেছেন, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীমহল, গবেষকদের এই সময় একসাথে এই সংক্রমণ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে।

ইতিমধ্যেই হু-এর তরফে বিশ্বের নামী বিজ্ঞানী, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফার্মগুলোকে এই মহামারীর ড্রাগ, ভ্যাকসিন ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বার করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। যে সব দেশে সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়ে গেছে সেইসব দেশকে আগে বাঁচাতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বড় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের কাছে ফান্ড জড়ো করার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কীভাবে সংক্রমণ আটকানো যায় সেজন্য সচেষ্ট হতে হবে সকলকেই।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে দরকার ‘পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা’, আগেই বলেছিলেন হু কর্তা ঘেব্রেইসাস। জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘‘অন্ধভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করা যায় না। সংক্রমনের বিষয় সন্দেহ হলেই পরীক্ষা জরুরি। তার জন্য নিজেকেও সচেতন হতে হবে। এই সংক্রমণ রোখার একটাই রাস্তা হলো শুরুতেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা।’’ ঘেব্রেইসাস বলেন, টেস্ট ছাড়া কোনওদিনই ধরা পড়বে না এই মারণ ভাইরাস। শুধুমাত্র সংক্রমণ সন্দেহ হলেই যে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হবে এমনটা কিন্তু নয়। সামান্য উপসর্গ দেখা গেলেও সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত, থুতু, লালা বা দেহরসের নমুনা ল্যাবোরেটরিতে টেস্ট করা দরকার। তাহলেই একমাত্র জানা যাবে ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে, চিকিৎসাও হবে ঠিক সেই মতোই। সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়াবার আগেই তাকে কিছুটা হলেও রুখে দেওয়া যাবে। স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা এদিন আবারও বলেছেন, সংক্রমণ রুখতে গেলে ল্যাব-টেস্ট যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি মানুষের সচেতনতা ও সতর্কতা। আর এই সচেতনতার অভাবেই বেড়ে চলছে সংক্রমন। ভারত তাই এই পরিস্হিতিকে সামাল দিতেই লকডাউন ঘোষণা করেছে।

RELATED Articles

Leave a Comment