বিপজ্জনক! সেরেলাকে মেশানো হচ্ছে চিনি, শিশুখাদ্য নিয়ে ছেলেখেলা, রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই ফের বিতর্কে নেসলে

ফের শিশু খাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার বিতর্ক ছড়ালো নেসলের সেরেলাক-কে (Cerelac) নিয়ে। সারা বিশ্বে একাধিক কোম্পানি শিশুদের খাবার তৈরি করে। ‌ভারতের শিশু খাদ্য‌ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেসলে। নেসলে কোম্পানির ম্যাগি নিয়ে কিছুদিন আগে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ‌তারপরে এবার তাদের শিশু খাদ্য নিয়ে উঠল প্রশ্ন। নয়া বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে নেসলের সেরেলাককে নিয়ে। সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে বলা হয়েছে নেসলে সেরেলাকে বেশি পরিমাণ চিনি ব্যবহার করে।

বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থার নেসলে বিশ্বের বহু দেশে বেশ জনপ্রিয়। ‌ভারতে ওই সংস্থা বেশ নাম অর্জন করেছে। এই সংস্থার শিশু খাদ্য (Cerelac) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে এদেশে বিক্রিত তাদের সবচেয়ে বেশি দুই শিশু খাদ্যেই তারা চিনি মেশায়। অথচ ব্রিটেন জার্মানি সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশে একই পণ্যে তারা চিনি মেশায় না। ‌পাবলিক আই নামের এক সংস্থার রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে নেসলে কোম্পানির ব্যাপারে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেসলের মত সংস্থার তৈরি শিশু খাদ্যে (Cerelac) চিনি মেশানোর এই প্রবণতা ভয়ংকর হতে পারে। এর ফলে হতে পারে স্থূলত্বের সমস্যা। তবে নেসলে এই অভিযোগ অস্বীকার করেনি। নেসলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতে বিক্রিত শিশু খাদ্যে গত পাঁচ বছরে তারা চিনি পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতের নেসলের যে ১৫ ধরনের সেরেলাক পণ্য বিক্রি করা হয়, তার মধ্যে চিনি মেশানো হয়। প্রতিবাদ যে পরিমাণ সেরেলাক (Cerelac) সার্ভ করা হয় তাতে ৩ গ্রাম চিনি থাকে। আবার ইথিওপিয়া ও থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে সেই চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে ৬ গ্রাম করা হয়েছে। কিন্তু জার্মানি বা ব্রিটেনের ক্ষেত্রে কোনদিনই চিনি মেশায়নি নেসলে। মূলত এশিয়া আফ্রিকা আমেরিকা দেশগুলোতে এই চিনি মেশানো হয় বলে জানা গেছে। এমনকি এই পণ্যগুলি প্যাকেটে পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্যের চাটে দেওয়া থাকে না চিনির বিষয়টি। রিপোর্টে দেখা গেছে ২০২২ সালে ভারতে ২০ হাজার কোটিরও বেশি সেরেলাক বিক্রি করা হয়েছে।

শিশুখাদ্যে এই চিনি মেশানোর প্রবণতা কতটা বিপজ্জনক?

ব্রাজিলের পারাইবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক রডরিগো ভিয়ানা জানাচ্ছেন, “এটা উদ্বেগজনক। শিশু ও কমবয়সিদের খাদ্যে (Cerelac) অতিরিক্ত চিনি মেশানো উচিত নয়। এটা অপ্রয়োজনীয় তো বটেই, অত্যন্ত আসক্তি সৃষ্টিকারীও। এতে বাচ্চারা মিষ্টত্বের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে আরও বেশি মিষ্টি খাবারের দিকে ঝোঁকে। দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পৌঁছনোর আগেই তাদের খাদ্যে পুষ্টির শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যায়।”

নেসলে ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সমস্ত স্থানীয় নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই তাঁদের পণ্য প্রস্তুত করা হয়। গত পাঁচ বছরে চিনির পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

আরও অন্যান্য খবর