সুর সম্রাজ্ঞী তিনি, একাকী, নিঃঙ্গ জীবন কাটিয়েছেন, কাকে বিয়ে করার বাসনা মনে পুষে রেখে আজীবন অবিবাহিত থেকে গেলেন লতা মঙ্গেশকর?

লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar) সুরেলা কন্ঠে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। প্রায় কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সংগীত জগতে কাজ করছেন তিনি। গান গেয়েছেন ৩০ টিরও বেশি ভাষায়। দীর্ঘদিন ধরে তার গলার জাদুতে সকলকে মোহিত করেছেন। ক্যারিয়ারে সফলতা পেলেও বাস্তব জীবনে অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাকে । বর্তমানে ৯১ বছর হলেও তিনি একাকী নিঃসঙ্গ।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এক মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে জন্ম তার। পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের বড় মেয়ে লতা মঙ্গেশকরের (Lata Mangeshkar) জন্মস্থান মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। জন্মের পর নাম রাখা হয় হেমা পাঁচ বছর পর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লতা। পিতা দীননাথ ছিলেন থিয়েটার অভিনেতা ও গায়ক। লতা মঙ্গেশকরের বেড়ে ওঠা মহারাষ্ট্রে। মাত্র ৭ বছর বয়স থেকেই ওখানে থাকতে শুরু করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মঞ্চে অভিনয় করা শুরু করেন। তবে তখন থেকেই শখ ছিলেন গায়িকা হওয়ার। পিতা ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুরাগী এজন্য লতা মঙ্গেশকরের (Lata Mangeshkar) চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন বাবা।

১৯৪২ সালে মারা যান দীননাথ। পরিবারে নেমে আসে সংকটের কালো মেঘ। তখন আর্থিক অনটন পড়ে যায় লতার (Lata Mangeshkar) সংসারে। লতা টাকা-পয়সা অর্জনের জন্য হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। প্রথমবার মঞ্চে গান গেয়ে লতা ২৫ পয়সা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। এটাই ছিল তার জীবনের প্রথম উপার্জন।

১৯৪২ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র কৃতি হাসালে প্রথম লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar) গান গেয়েছেন। শৈশবে কুন্দলাল শাহেগালর চলচ্চিত্র চন্ডীদাস দেখে বলেছিলেন বড় হয়ে তাকেই বিয়ে করবেন তিনি। তবে তার সেই ইচ্ছে পূর্ণতা পায়নি। তবে সেই সুযোগ হয়নি পরিবারের সকলের দায়িত্ব কাঁধে তার। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের চিন্তা করলে সবই বিফলে যেত। না পারতেন পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে, না পারতেন সংগীতকে প্রাধান্য দিতে। বিবাহ করলে হয়তো সংসার করাও হত না তার। তাই সে সময় বিয়েকে প্রাধান্য না দিয়ে সংগীতকে বেছে নেন। আর তাই তিনি হয়ে উঠেছেন সুর সম্রাজ্ঞী (Lata Mangeshkar)

আরও অন্যান্য খবর