ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিমধ্যে ১৪-১৫ বছর কাটিয়েছেন তিনি। প্রথমেই ঋতুপর্ণ ঘোষের গানের ওপারে দামিনী হয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘বয়েই গেল’, ‘মন নিয়ে কাছাকাছি’, ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ নানা ধারাবাহিক ও ছবির হাত ধরে হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী। কথা বলছি অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়ের (Basabdutta Chatterjee)। সম্প্রতি তাকে দেখা যাচ্ছিল ‘কার কাছে কই মনের কথা’- ধারাবাহিকে। কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে ধারাবাহিকের শ্যুটিং, এখন তিনি ‘রাঁধুনি’-র সঞ্চালিকার দায়িত্ব পেয়েছেন।
অনেকদিন পর তিনি সঞ্চালনার দায়িত্বে, কেমন লাগছে এই কাজ। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছিল সঞ্চালনা দিয়ে, তবে কুকারি শোতে এই প্রথমবার। অনেকটা দিন গ্যাপের পর আবার ‘রাঁধুনি’র সঞ্চালিকা হয়ে বেশ ভালো লাগছে।” তিনি নাকি খুব বেছে কাজ করেন এ কথা সকলেরই জানা। কী ভেবে ‘রাঁধুনি’র সঞ্চালিকার দায়িত্ব নিলেন? অভিনেত্রী বলছেন, “আমি বেছে কাজ করতে অবশ্যই পছন্দ করি। আর ‘রাঁধুনি’-কে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হল, আমি রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসি। পাশাপাশি প্রথমবার এরকম একটা কুকারি শো হোস্ট করছি। অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে।”
‘কার কাছে কই মনের কথা’- ধারাবাহিকে অন্যরকম চরিত্রে কাজ করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “কার কাছে কই মনের কথা-এ আমায় যে চরিত্র দেখা গিয়েছে সেটা অনেকেরই ভালো লাগেনি। বলা ভালো অনেকেই এটা পছন্দ করেনি। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের মনে হওয়ায় কোনও দোষ দেখি না, এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ গল্পটা যেভাবে শুরু হয়েছিল, বলা হয়েছিল পাঁচটা মেয়ের আলাদা আলাদা গল্প দেখানো হবে। কিন্তু সেটা আর করা হয়নি। যারা আমার কাজ দেখতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটা অবশ্যই একটা আক্ষেপের জায়গা। অনেকেই বলেছেন ‘তুমি কেন এই চরিত্রটা করলে?'”
তিনি আরও বলেন, “আসলে আমি যখন কাজটা নিয়েছিলাম তখন তো অন্যরকম শুনেছিলাম। এইরকম হবে জানলে হয়তো কাজটা নিতাম না আমি। কিন্তু একবার নিয়ে যখন ফেলেছি, তাই মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে কাউকে সমস্যার মধ্যে ফেলতে চাইনি। পাশাপাশি আমার কাজে পরিবেশটাও খুব ভালো ছিল। সঠিক সময় কাজ শেষ হয়ে যেত। শনি-রবিবার ছুটি থাকত। শুরুতে তো এই ছুটি পাওয়া বা ১৪ ঘণ্টা কাজ এইসব ছিলই না।”
ইন্ডাস্ট্রিতে বদল এসেছে, সেটা কতটা ভালো নাকি খারাপ। বাসবদত্তার কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো-খারাপ দু’টো দিক থেকেই পরিবর্তন এসেছে। ভালো দিক বলতে আমি যে সময় কাজ করতাম সে সময় ২০-২২ ঘন্টা কাজ করতে হত, কোনও ছুটি নেই, ভীষণ কষ্ট করেছি। কিন্তু এখন যারা লিড করছেন তাঁদের সেই সমস্যাটার মুখোমুখি হতে হয় না। আবার আমাদের সময় কাজের পরিবেশটা খুব ভালো ছিল, খুব আন্তরিক ছিল। বসে কথা বলা, গল্প করা, কাজের ফাঁকে আড্ডা মারা সব হত। এখন সবাই মোবাইলে ব্যস্ত। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। আমাদের পরের জেনারেশনের মধ্যে কাজের প্রতি ভালোবাসাটার থেকে কটা শো করলাম, কটা ফিতে কাটলাম, কটা গাড়ি কিনে নিলাম, কটা পার্টি করলাম এটাই আসল ব্যাপার।”
বাসবদত্তা বলেন, “সিনিয়রদের সামনেই তারা সিগারেট খাচ্ছেন। কোনও সংযম নেই, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। আমরা এটা করব কখনও ভাবতেই পারি না। আমরা শ্যুটিংয়ে গিয়ে স্ক্রিপ্ট পড়তাম। এরা এসে আগে ট্রেন্ডিং গান খোঁজে, রিল করার জন্য। কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করে না, তাদের ভাবটাই এমন, যে ‘আমি সব জানি’। পরিচালকদের কথাও শোনেন না এরা। তবে হ্যাঁ সকলে যে এরকম সেটা বলছি না।”
ইন্ডাস্ট্রিতে এখন নতুন ট্রেন্ড, ফলোয়ার দেখেই কাজ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাসবদত্তা বলেন, “ফলোয়ার দেখে যারা কাজ দিচ্ছেন তাঁদের বোধহয় একটু ভাবনা চিন্তা করা দরকার। কারণ ফলোয়ার বেশি থাকা মানে যে সে খুব ভালো অভিনেতা বা অভিনেত্রী এমনটা কিন্তু নয়। এমন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা বহুদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিলেন না। অপু দা মানে শ্বাশত চট্টোপাধ্যায় তিনি তো বহুদিন পর্যন্ত স্যোশাল মিডিয়ায় ছিলেন না। কিন্তু তিনি কত বড় অভিনেতা তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”






