এলাকায় দিনদিন বাড়ছে অরাজনৈতিক কার্যকলাপ। হামলা বা ভাঙচুর তো বটেই, এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জোর করে জমি জবরদখল, বেআইনি নির্মাণ। জয়ন্ত সিংদের মতো লোকেরা ত্রাস হয়ে উঠছে এলাকায়। কিন্তু এসব কিছু জানা সত্ত্বেও কেন চুপ ছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র? সে নিয়ে প্রশ্ন উঠল এবার।
এই বিষয়ে মদন মিত্রের সাফাই, “এমএলএ কি জমিজমার হিসেব রাখে? কত সেটিং হল, এসব দেখা আমার কাজ নয়। পুরসভার কাজ। আমি বলতে পারব না”।
সামনে এসেছে জয়ন্ত সিংয়ের প্রাসাদসম বাড়ির খোঁজ। সেই বাড়িও নাকি বেআইনিভাবেই নির্মিত। সেই সম্পর্কে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “বিনা পারমিশনে ওরকম প্রাসাদের মতো বাড়ি উঠল, কেউ জানতেও পারল না! এটা অদ্ভুত”।
মদন মিত্রের কথায়, এলাকায় বেআইনি নির্মাণ নাকি কোনও ব্যাপারই না। তিনি বলেন, “কামারহাটিতে বেআইনি নির্মাণ, পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করা কোনও ফ্যাক্টরই না। পাড়ায় পাড়ায় জুয়া-সাট্টার আড্ডাও কোনও ব্যাপার নয়”।
সব কিছু জেনেও, সব খবর পেয়েও কেন বিধায়ক হিসেবে কোনও পদক্ষেপ নেন নি তিনি। এই প্রসঙ্গে মদন মিত্রের সাফাই, “রাত ২ টোর পর খেলা হচ্ছে, আমি কি রাত ২টোর পর গিয়ে ধরব? আমি কি ফেলুদা? স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপার এগুলো। বিধায়কের হাতে কোনও প্রশাসন নেই। আমি বক্তৃতা দিতে পারি”।
যদিও মদন মিত্রের দাবী, এই বিষয়ে অনেকনার অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, জয়ন্ত সিংয়ের নামেও বারবার সতর্ক করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তালতলা স্পোর্টিং ক্লাব বন্ধ হওয়ায় তিনি খুশি বলে জানান মদন। ওই ক্লাব থেকেই সমস্ত অপরাধের ঘটনা ঘটছিল।
এদিকে জয়ন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় হুমকি ফোন পেয়েছেন তিনি, এমনটাই জানান মদন মিত্র। তাঁর কথায়, “আমার কাছে রাত ১২টা ১৯ নাগাদ একটা ফোন আসে। মদন মিত্র আছেন। তুই বাঁচবি না। কামারহাটিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছিস। তোকে গুলি করে দেব। গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হ। বারবার ঘুরে ফিরে ফোনটা আসছে। রাত ১২টার পর থেকে আসছে। যখন নেশা ফেটে যাচ্ছে ফোন আসা বন্ধ। ওদের বক্তব্যই হচ্ছে মদন মিত্রকে গুলি করে মেরে দেব”।
বলে রাখি, আড়িয়াদহে মা- ছেলে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় জয়ন্ত সিংকে। এরপর গত সোমবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যাতে দেখা যায় জয়ন্ত সিং একজনকে আড়িয়াদহ ক্লাবের ভেতরেই চ্যাংদোলা করে উইকেট দিয়ে মারধর করছে। সেই ব্যক্তি তরুণ না তরুণী, তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি। সেই ভিডিও নিয়ে শোরগোল পড়তেই জয়ন্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর এরপর থেকেই তৃণমূল বিধায়কের কাছে আসতে শুরু করেছে এই হুমকি ফোন।





