দুর্ঘটনার পর পেরিয়েছে ৭ বছর, অদম্য জেদ ও কঠিন মানসিকতার জেরে ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করছেন রণদীপ, এখন কেমন আছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি?

প্রায় সাত বছর হয়ে গেল স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জির (Soumitra Chatterjee) নাতি রণদীপ বসু (Ranadeep Bose)। সৌমিত্র চ্যাটার্জির কন্যা পৌলোমী বসুর (Poulami Bose) ছেলে তিনি। দাদুর পথ অনুসরণ করে সিনেমার দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন রণদীপ। প্রথম ছবি ছিল ‘এগারো’ (The Eleven)। ১৯১১ সালে মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এই সিনেমা। নিজেও অভিনয় দক্ষতার জনপ্রিয়তাও পাচ্ছিলেন ধীরে ধীরে।তাকে দেখা গেছিল অঞ্জন দত্তের ছবি দত্ত ভার্সেস দত্ত (Dutta vs Dutta) ছবিতেও।

এমন সময়ই তার জীবনে নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর রাত। ২০১৭ সালের ৩১শে মার্চ রাত দুটোর সময় ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। নিউ আলিপুর স্টেশন রোডের এক রেঁস্তোরার সামনে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা মারেন তিনি। গুরুতর চোট লাগে রণদীপের মাথায়। সংকটজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সাইন্সে তার ব্রেন সার্জারি হয়। দীর্ঘদিন ছিলেন ভেন্টিলেশনে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যুকে জয় করলেও জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন রণদীপ। একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। হাঁটাচলা, কথাবার্তা সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি পাল্টে যায় চেহারাও। দাদু দিদার চলে যাওয়ার কষ্ট মুখ বুজেই সহ্য করেছেন তিনি। কারন কষ্ট প্রকাশ করার মতো অবস্থা ছিল না রণদীপের।

এই ঘটনার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। রণদীপ আজও পারেন না ঠিক করে কথা বলতে। কিন্তু তার মুখের সেই অমলিন হাসি আজও বর্তমান। আস্তে আস্তে হাঁটাচলা করার চেষ্টা করছেন তিনি। অদম্য জেদ ও কঠিন মানসিকতার জোরে রণদীপ ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে।

রণদীপের পৌলমী বসু জানান, “আজও অভিনয় দুনিয়ার আমাদের কাছের দূরের মানুষরা রণদীপের খোঁজ নেয়, জানতে চায় ও কেমন আছে। সকলকে একটা ভালো খবর দিতে চাই। আগের থেকে অনেকটাই ভালো আছে রণদীপ। দুপাশে দুজনকে পেলে আস্তে আস্তে হাঁটতে পারে। কথা বলতে না পারলেও সুন্দর হাসি দেয়। খুব তাড়াতাড়ি আগের মত হয়ে যাবে আমার ছেলে”। রণদীপের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles