‘ও অনেকবার আমার কাছে এসেছে পদত্যাগের জন্য, আমিই করিনি…’, বিনীত গোয়েলের অপসারণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা?

আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবী উঠেছে। কিছুদিন আগেই তাঁর পদত্যাগের দাবী লালবাজার অভিযান করে ডেপুটেশন জমা দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত সপ্তাহেই জুনিয়র চিকিৎসকরা লালবাজার অভিযান করেন বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবীতে। ২২ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভের পর তাদের ২২ জনের প্রতিনিধি দল যায় লালবাজারে। সেখানে পুলিশ কমিশনারের হাতেই তাঁর পদত্যাগের ডেপুটেশন তুলে দেন তারা। সঙ্গে ছিল প্রতীকী মেরুদণ্ড। এবার তাঁর পদত্যাগ নিয়ে খোলসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চারিদিকে যখন বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবী উঠেছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন যে পুলিশ কমিশনারকে এখনই সরানো হবে না। তবে একেবারেই যে অপসারণ করা হবে না, তা যদিও নির্দিষ্ট করে বলেন নি তিনি। মমতার কথায়, ক’টা দিন একটু অপেক্ষা করতে হবে।

এদিন মমতা বলেন, “পদত্যাগ করার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার নিজে আমার কাছে অনেকবার এসেছে। সাতদিন আগে। সামনে পুজো। আপনারা এবার আমায় বলুন। যে থাকবে, সেই লোকটাকে আইন-শৃঙ্খলা তো জানতে হবে। কোন পাড়ায় কোন পুজো হচ্ছে, পুজো কমিটিগুলি কী থিম করছে, কোথায় কী পুলিশ পোস্টিং আছে, (সেটা জানতে হবে তো)”।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এটা পুজোর সময়। কিছু ধৈর্য ধরলে কী মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়? আপনারা ঠিক করবেন…সবাইকে চেঞ্জ করতে হবে। যতটা পারছি, আমরা করছি। আপনি আমায় ১০টা দাবি দিতে পারেন। পাঁচটি করতে পারি। পাঁচটা নাও করতে পারি। আমি তো ইতিমধ্যে অনেকগুলো করে দিয়েছি”।

আরও পড়ুনঃ আর জি করে মোতায়েন সিআইএসএফ বাহিনীকে অসহযোগিতার অভিযোগ রাজ্যের বিরুদ্ধে, ‘দেড় ঘণ্টা দূরে থাকতে হয় তাদের’, আদালতে অভিযোগ কেন্দ্রের

বলে রাখি, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদের দায়িত্ব পান বিনীত গোয়েল। সাধারণত তিন বছরের বেশি কাউকে পুলিশ কমিশনারের পদে রাখা হয় না। ফলে আগামী তিনমাসের মধ্যে এমনিও বিনীত গোয়েলকে সরাতেই হবে। ফলে সেই কারণেই তাঁকে হয়ত এই মুহূর্তে বহাল রাখতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

আরও অন্যান্য খবর