আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় এই মুহূর্তে রাজ্য উত্তাল। প্রতিবাদ-আন্দোলন চলছে দিকে দিকে। ন্যায় বিচারের দাবীতে সরব হয়েছে সকল স্তরের মানুষ। আর জি কর কাণ্ডের আবহেই সামনে এসেছে নানান মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচারের বিষয়টি। এই থ্রেট কালচারের জেরেই বলি মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রী।
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান থেকে কোচবিহারের এমজেএম মেডিক্যাল কলেজের পড়তে গিয়েছিলেন এক ছাত্রী। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ইনট্রো দেওয়ার নাম করে ওই কলেজে র্যাগিং চলত। কলেজে এক ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আর কলেজের এমন সংস্কৃতির জেরেই আত্মঘাতী হন প্রথম বর্ষের ওই মেডিক্যাল পড়ুয়া।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়ের ময়নাতদন্তের পর দেহ দাহ করার সময় দেহ ঘিরে রেখেছিল সিনিয়ররা। এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। যেদিন ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেন, সেদিন এক সিনিয়র ছাত্রের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হয়েছিল বলেও জানা যায়। সেই সিনিয়র ছাত্র চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ। এই বিরুপাক্ষ বিশ্বাসকেই আর জি কর কাণ্ডের পর থ্রেট কালচারের চক্রী বলে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনাটি ২০২৩ সালে ঘটলেও আর জি কর কাণ্ডের আবহে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে এই ঘটনা। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে আত্মঘাতী হওয়া ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, “প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় ওর চেয়ে কম মেধাবীদের টোকাটুকির বহর দেখে ভেঙে পড়েছিল। ওর মনে হয়েছিল, যদি ডাক্তারিটাই না-শেখা হয়, তা হলে এত পরিশ্রম করে তিন বারের চেষ্টায় নিট পরীক্ষার গণ্ডি টপকে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়ে লাভটা কী হল”? তাঁর বাবা জানান, মেয়ে বারবারই বলতেন, মন ভালো নেই, ভালো লাগতো না কোচবিহার মেডিক্যালের সংস্কৃতিও।
তিনি আরও বলেন, “কলেজে পড়াশোনার পরিবেশটা একদমই খারাপ। ও অনেকবার বলেছে, কলেজটা ভালো না, হস্টেলে পড়াশোনা হয় না। ইনট্রো, এটাই ভালো না। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি রয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া আবার টুকলি করে পাশ করবে কি? ওঁরা তিনটি মেয়েকে গার্ড করে রাখল, কেন? ওদের একজনকে আমার মেয়ে শেষ মেসেজ করেছিল, বলেছিল, সরি ফর মাই বিহেভিওর…”।
জানা গিয়েছে, যেদিন ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়, সেদিন ঠিক এর আগেই কলেজের এক টিএমসিপি চিকিৎসক নেতার সঙ্গে মেসেজে কথা হয়েছিল ওই ছাত্রীর। কিন্তু অভিযোগ, ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর আরেক ছাত্রনেতা সেই চ্যাট ডিলিট করে দেন। সেই ছাত্রনেতা আবার থ্রেট কালচারে যুক্ত বলে জানান ছাত্রীর মা-বাবা।
এই বিষয়ে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নির্মলকুমার মণ্ডল বলেন, “আমরা সবসময়ই ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেমেয়েদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করতাম। সেটাকেই বিরোধিতা করে অন্য অজুহাত দেখিয়ে আমাকে ঘেরাও করা হয়। ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেমেয়েদেরও এই ঘেরাও অভিযানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। ওই মেয়েটিকেও বাধ্য করা হয়েছিল। আমি সেটা ওর বাবাকেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে যে মেয়েটা কষ্ট পেয়েছিল, সেটাও পরে আমাদের এসে জানিয়েছিল। ইনট্রো নামে যে বিষয়টা, সেটাও শুনেছি। আমি ওর বাবাকে বলেছিলাম, আমাকে তো তখনই জানাতে পারতেন। কিন্তু ওর বাবা তখন বলেছিলেন, আমার মেয়েই বারণ করেছিল”। অর্থাৎ ভয়ে সে সময়ে কাউকেই কিছু জানাতে পারেননি ছাত্রী।
আরও পড়ুনঃ ‘মেয়েটা বড্ড বাড়াবাড়ি করছে…’, সন্দীপ ঘোষের মোবাইল ঘেঁটে বিস্ফোরক তথ্য পেল সিবিআই, কুকীর্তি ধরা পড়তেই ‘তিলোত্তমা’কে খুন?
চিকিৎসক সংগঠনের নেতা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই থ্রেট কালচার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রছাত্রীরা হয়েছে, শিক্ষকরাও হয়েছেন। এটাও একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। তিলোত্তমার ঘটনার থেকে কোনও অংশে কম নয়। কারণ ওখানেও ময়নাতদন্তের সময়ে দেহ ঘিরে রেখেছিল। একই পরিস্থিতি।





