দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা জলের তলায়। গত ১৫ বছরে বাংলায় এমন বন্যা হয়নি বলে খবর। এই বন্যা পরিস্থিতির জন্য বারবার ডিভিসির জল ছাড়াকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর এই দাবীর পাল্টা দিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবী, মমতার নির্দেশেই রাজ্যের বাঁধগুলি থেকে যে জল ছাড়া হয়েছে, তার কারণেই এই বন্যা।
রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির জন্য প্রথম থেকেই ডিভিসির দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন আবহে ডিভিসির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বন্যা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ডিভিসির বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তবে এবার গতকাল, মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের এক নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসে। তাতে স্পষ্ট যে এই জল ছাড়ার কথা আগে থেকেই জানত নবান্ন।
এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে একের পর এক বলে যাচ্ছেন। সেই বক্তব্যগুলো অসত্য। উনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না কি কিছুই জানানো হয়নি ডিভিসির জল ছাড়া প্রসঙ্গে। কিন্তু ১৭ তারিখে ওনারই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ওনার নির্দেশে সমস্ত জেলাকে চিঠি দিয়েছে যে ডিভিসি জল ছাড়বে আপনারা প্রস্তুত হোন। একই মুখে উনি স্ববিরোধী কথা উনি কী ভাবে বলতে পারেন”?
বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবী, “আপনারা অপেক্ষা করুন, তথ্যপ্রমাণ বেরোচ্ছে যে ডিভিসি যে পরিমাণ জল ছেড়েছে সেই জলের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বন্যা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বাঁধগুলি থেকে জল ছাড়ার জন্য বন্যা হয়েছে”।
তিনি আরও জানান, “সমস্ত বাঁধের একটা জলধারণ ক্ষমতা থাকে। যত সময় যায় তত সেই ক্ষমতা কমতে থাকে। তার কারণ, জমা জল থাকলে পলি পড়ে। এই পলি তুলে না ফেললে জলধারণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের বাঁধগুলিতে গত ১০ বছরে কখনও পলি তোলার কাজ হয়নি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করায় বিশ্বাস করেন না”।
আরও পড়ুনঃ আর জি কর মামলা থেকে সরলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, তিলোত্তমার হয়ে এবার মামলা লড়বেন কে?
সুকান্তবাবুর কটাক্ষ, “এখন গোটা বন্যা পরিস্থিতিটাকে উনি নাট্যমঞ্চে পরিণত করেছেন। যাতে আরজি কর থেকে মানুষের নজর যেন বন্যার দিকে চলে যায়”।






