কলকাতার এই পুজোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বদেশী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই পুজোর ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!

মহালয়া হয়ে গেছে আর সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের, দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আর হাতে গোনা দিন বাকি। ঘরে ঘরে মানুষের দুর্গাপুজো নিয়ে শুরু হবে উন্মাদনা। প্রত্যেকটি দুর্গাপুজোর সাথেই একটি করে ইতিহাস জড়িয়ে থাকে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি দুর্গাপুজো আছে যার সাথে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নাম জড়িয়ে রয়েছে। হ্যাঁ, সেই পুজোই ৫০০ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু (Subhash Chandra Bose)। শুধু নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু নয়, চিত্তরঞ্জন দাশ থেকে শুরু করে স্বদেশী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই পুজোর ঐতিহ্য।

একটা সময় যাদের হাতে পয়সা থাকত সেই সমস্ত বাবুরা দুর্গা পুজার আয়োজন করতেন। সেইসব পুজোতে আন্তরিকতা থাকত না থাকত টাকার গরম ও আভিজাত্যের অহংকার প্রদর্শন। পুজোর কটা দিন গরীব মানুষকে খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হত তীব্র অহমিকা বোধ, এরকমই এক বাবুর পুজোয় একবার অপমানিত হয়ে প্রসাদ না খেয়েই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন এলাকার কিছু মানুষ।

তারপর তারা ঠিক করেন সকলে মিলে একটি দুর্গা পুজো করবেন। তবে সেই পুজোর মধ্যে কোন‌ও জাতিভেদ থাকবে না, থাকবে না উঁচু নীচুর বৈষম্য, থাকবে আন্তরিকতা আর দেশাত্মবোধ। এখানকার পুজোর বৈশিষ্ট্য হল মায়ের বিরাট মুখ আর বিশাল মুখাবয়ব, টানা টানা চোখ, যা দেখলে মনে হয় মা স্বয়ং দাঁড়িয়ে রয়েছেন! এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বদেশী আন্দোলনের যোগ। একটা সময় অষ্টমীর সময় হত বীরাষ্টমী উদযাপন। এই বীরাষ্টমী শাস্ত্রনির্ভর কোন‌ও নিয়ম নয়, এটা ছিল দেশাত্মবোধের প্রকাশ।

অষ্টমীর দিন মায়ের পুজোকে কেন্দ্র করে এই পুজোর মাঠে লাঠি খেলা থেকে কুস্তি ইত্যাদি হত। বর্তমানে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও আজও সেখানে বীরাষ্টমী পালিত হয়। সময়ের সঙ্গেই বীরাষ্টমীতে যুক্ত হয়েছে ক্যারাটে, জুডো। এই পুজোয় দুর্গানগরের যে মাঠে মেলা বসে একটা সময় সেটা ছিল কলকাতা পুরসভার রাস্তা সারাই বিভাগের মেন্টাল ইয়াড।

বিখ্যাত আইনজীবী দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন মেয়র সুভাষচন্দ্র বসুকে অনুরোধ করেন, এই জায়গায় মেলার আয়োজন করার জন্য। সুভাষচন্দ্র বসু রাজি হয়ে অনুমতি দেন আর সেই সময় পুজো উদ্যোক্তাদের ৫০০ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে এই পুজো শুরু হয়। প্রথমে এই পুজোর নাম ছিল ‘নেবুবাগান বারোয়ারী’। তারপরে ১৯২৬-এ এই নাম পরিবর্তন হয়। সেই ‘নেবুবাগান বারোয়ারী’ নাম পরিবর্তন করে এই পুজোর নাম রাখা হয় বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব।

উল্লেখ্য, ১৯৩৮-১৯৩৯ সালে সুভাষচন্দ্র বসু এই পুজোর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৮-এ অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীতে সার্টিফিকেট অব মেরিট পায় ‘ক্যালকাটা কলাপসিবল গেট কোম্পানি লিমিটেড’। সেই সময় সুভাষচন্দ্র সই করে যে শংসাপত্র দিয়েছিলেন, তার কপি আজও রক্ষিত রয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন পুজোকর্তাদের কাছে। স্বদেশী আন্দোলনের ইতিহাস সম্বলিত এই পুজো তাই আমাদের ঐতিহ্য।

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles