আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত। এমন আবহেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসছে নানান নির্যাতনের ছবি। এবার থানার মধ্যেই শ্লীলতাহানির শিকার এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। অভিযোগের কাঠগড়ায় থানার সাব-ইনস্পেক্টর।
আর জি করের ঘটনার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠে প্রশ্ন। এরপরই গতকাল, শনিবার সামনে আসে জয়নগরের ৯ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা। সেই ঘটনাতেও উত্তাল পরিস্থিতি। সামনে এসেছে ভূপতিনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনাও। এমন পরিস্থিতিতে এবার সামনে এল থানার মধ্যে মহিলা সিভিককে শ্লীলতাহানির ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার পার্ক স্ট্রীট থানায়। জানা গিয়েছে, পুজোর পোশাক দেওয়ার নাম করে গভীর রাতে ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে রেস্ট রুমে ডাকেন ওই সাব-ইনস্পেক্টর। সেখানে তাঁকে সালোয়ার কামিজ দেওয়ার সময় তাঁকে শ্লীলতাহানি করেন ওই পুলিশ কর্মী, এমনটাই অভিযোগ।
লালবাজার সূত্রে খবর, ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার পার্ক স্ট্রিট থানায় কম্পিউটার সেকশনে কাজ করেন। গত শুক্রবার থানায় সিভিকদের জন্য পোশাক দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার দিন রাত ৯টায় ডিউটিতে যোগ দেন ওই মহিলা সিভিক। রাত ১টা নাগাদ তাঁকে থানার তিনতলার রেস্ট রুমে ডাকা হয়। অভিযোগ, সেখানেই মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করেন অভিযুক্ত সাব ইনস্পেক্টর। তবে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ মহলে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট থানা নির্যাতিতার অভিযোগ নিতেও অস্বীকার করে। এমনকি, বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় নির্যাতিতার পরিবারকে। এই ঘটনাটি লিখিতভাবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দফতরে জানানো হয়েছে বলে খবর। কেন রাত ১টার সময় এক মহিলাকে ডাকা হবে পোশাক দেওয়ার জন্য, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন!
নির্যাতিতার পরিবারের দাবী, “শনিবার লালবাজার গেলে সেখানেও লিখিত অভিযোগ জমা করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে আমরা স্পিড পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নবান্ন এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি”। অভিযুক্ত এসআইয়ের সহকর্মীদের একাংশ জানাচ্ছেন, “কিছুক্ষণের জন্য ওই তরুণী ঘরে গিয়েছিলেন। কী ভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা বুঝতে পারছি না। যদি কেউ দোষ করে থাকেন, তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত”।
পার্ক স্ট্রীট থানার তরফে জানানো হয়েছে, ওই রেস্ট রুমে সিসিটিভি ছিল না বটে। তবে এমন এক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এক পুলিশ কর্তা জানান, “আমরা ওই তরুণীর বাড়িতে তদন্ত করতে পুলিশকর্মীদের পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁকে পাইনি। ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না”।
আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যেই নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, পলাতক অভিযুক্ত, তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ
অন্যদিকে আবার নির্যাতিতার পরিবারের দাবী একেবারে উল্টো। তারা বলছেন, “রাতেই আমরা অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলাম। নেওয়া হয়নি। আমরা সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করেছি। সেই রিপোর্টও আমাদের কাছে রয়েছে”।





