বাড়ির দুর্গার বিসর্জন হয়েছে, মেয়ের জন্য সুবিচারের দাবী নিয়ে বাড়ির সামনেই ধর্নায় তিলোত্তমার মা-বাবা

আজ, মহাষষ্ঠী। এদিন হয় মা দুর্গার বোধন। কিন্তু সোদপুরের সেই বাড়িতে বোধনের ২ মাস আগেই বিসর্জন হয়েছে বাড়ির উমার। বাড়ি পুরো ফাঁকা। পুজোর দিনে যে বাড়িতে ঢাকের আওয়াজ শোনা যেত, আজ সেই বাড়িতেই প্রতিবাদের ভাষা। মেয়ের জন্য সুবিচারের দাবী নিয়ে ষষ্ঠীর সকাল থেকেই ধর্নায় বসলেন আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা।

প্রতি বছর দুর্গাপুজো হত তাদের বাড়িতে। চারিদিকে ঢাক, কাঁসর ঘণ্টার আওয়াজ। লোকজনের আসা-যাওয়ায় বাড়ি গমগম করত। আলোয় ঝলমল করত গোটা বাড়ি। কিন্তু একটা অভিশপ্ত রাত, ৮ আগস্ট। বদলে দিল গোটা বাড়ির চিত্র। সেই বাড়িই এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। আলো জ্বলবেই বা কার জন্য। বাড়ির উমাই যে অস্তাচলে।

বাড়িতে কোনও পুজোর প্রস্তুতি নেই। নেই কোনও তোড়জোড়। বাড়িতে লোকজন রয়েছে তবে উৎসবে সামিল হতে নয়, প্রতিবাদে সামিল হতে। আগেই জানা গিয়েছিল, পুজোর চারদিন নিজেদের বাড়ির সামনেই ধর্নায় বসবেন আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা। থাকবেন তাদের আত্মীয়স্বজনও। তেমনটাই হল।

তিলোত্তমার বাড়ির কাছেই বাঁধা হল ধর্না মঞ্চ। ষষ্ঠীর সকাল থেকেই তিলোত্তমা মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনরা বসলেন ধর্নায়। কোনও আন্দোলন বা বিক্ষোভ নয়, বাড়ির মেয়ের জন্য সুবিচারের দাবী তুলে তাদের এই ধর্না। আজ থেকে শুরু হওয়া এই ধর্না চলবে দশমী পর্যন্ত। বাড়ির মেয়ের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের ন্যায় বিচার পেয়েই ছাড়বেন তারা।

আরও পড়ুনঃ কুপনে লেখা ‘মদ একটি (বাংলা)’, তাতে তৃণমূলের স্ট্যাম্প, বন্যাত্রাণে মদ দিচ্ছে তৃণমূল? 

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট সকালে আর জি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয় তাঁকে। সেই ঘটনায় জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন। গর্জে উঠেছে নাগরিক সমাজ। দিকে দিলে শুরু হয় আন্দোলন, বিক্ষোভ। জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছেন বটে, কিন্তু এখনও তাদের আন্দোলন জারি। আমরণ অনশন করছেন তারা। অন্যদিকে, উৎসবের মাঝেও চলছে আর জি করের নির্যাতিতার সুবিচারের জন্য প্রতিবাদ। এবার সুবিচারের দাবীতে ধর্নায় তিলোত্তমার মা-বাবাও।       

RELATED Articles