অনিকেত-অনুষ্টুপের পর এবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন আরও একবঅনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসক পুলস্ত্য আচার্য। গতকাল, রবিবার রাতে গ্রিন করিডোর করে নিয়ে গিয়ে নীলরতন সরকার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এই মেডিক্যাল কলেজেরই পিজিটির ছাত্র পুলস্ত্য আচার্য।
গত ৬ অক্টোবর থেকে নিজেদের ১০ দফা দাবী নিয়ে অনশনে বসেছিলেন ৬ জুনিয়র চিকিৎসক। পরে তাতে যোগ দেন আরও এক জুনিয়র চিকিৎসক। এই সাত জনের মধ্যে নীলরতন সরকার হাসপাতালের প্রথম বর্ষের অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের পিজিটি পুলস্ত্য আচার্য একজন। ১৯৮ ঘণ্টা অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গতকাল, রবিবার সন্ধ্যে থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
জানা গিয়েছে, তাঁর ইউরিনে কিটোনের মাত্রা বেড়ে বমি বমি ভাব হতে থাকে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি না হলেও, পরবর্তীতে জুনিয়র ডক্টরস ফোরামের তৎপরতায় হাসপাতালে নিয়া যাওয়া হয় তাঁকে। পুলস্ত্যের জন্য এনআরএসের কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, চেস্ট মেডিসিন, অ্যানাস্থেসিয়ার চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে খবর। আগে থেকেই পুলস্ত্যের জন্য সেখানে সিসিইউ-র ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল।
পুলস্ত্যের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জানান, “পুলস্ত্য আচার্য সাত দিন ধরে অনশনে ছিলেন। ফলে তাঁর মানসিক সচেতনতা কমে যায়। অবচেতন হওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে এবং পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থা গম্ভীর কিন্তু স্থিতিশীল”।
এনআরএস-এর মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন, “তাঁর শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যাসিড বেসের মাত্রার পরিবর্তন হওয়ার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দীর্ঘ সময় না খাওয়ার জন্য মূলত এই সমস্যাগুলি হয়েছে। এছাড়া তাঁর শরীরে জলের পরিমাণও কমে গেছে”।
বলে রাখি, এর আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আর জি করের জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। আর জি করের সিসিইউ-তেই ভর্তি করা হয় তাঁকে। বেশ উদ্বেগজনক অবস্থা ছিল তাঁর। এরপর গত শনিবার ধর্নামঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায়। তিনি এই মুহূর্তে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। অনুষ্টুপ ও অনিকেতের অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কামুক্ত নয়। এরই মধ্যে এবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসক পুলস্ত্য আচার্যও।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার