করোনা সংক্রমণের জেরে মন্দা বিশ্ব অর্থনীতিতে। তার জের থেকে বাঁচেনি ভারতীয় অর্থনীতিও। লকডাউনের ফলে বন্ধ দেশের আয়ের সব রাস্তা। এরই মাঝে সাংবাদিক সম্মোলন করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানালেন, মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে দেশের বেহাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিরোধে আরবিআই সারা দেশের উপর নজর রাখছে। মানবিক রূপ বজায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে ব্যাঙ্ক, এমনটাই জানিয়েছেন শক্তিকান্ত। আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ড (IMF) ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বে মহামন্দার আভাস দিয়েছে। কয়েকদিন আগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, সারা বিশ্বে চাকরি হারাতে পারেন কয়েক কোটি মানুষ।
বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মন্দার সম্মুখীন হতে চলেছে গোটা বিশ্ব। এমনই সময়ে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য আশার কথা শোনালেন আরবিআই গভর্নর। দেশে করোনা যুদ্ধে সামনের সারি থেকে লড়ছেন ডাক্তার- নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরা। তাঁদের কুর্ণিশ জানিয়ে শক্তিকান্ত দাস বলেন, “এই মুহূর্তে ভারতের সম্ভাব্য আর্থিক বৃদ্ধির হার ১.৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৭.৪ শতাংশ। তবে বিশ্বের জি—২০ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল দশা ভারতের, এদেশে বৃদ্ধির হার অন্যদেশগুলির তুলনায় ভালো।” শক্তিকান্ত আরও বলেছেন,”দেশের ব্যাংকগুলিতে নগদের জোগান বাড়ানো হয়েছে। জিডিপির ৩.২ শতাংশ নগদের জোগান দেওয়া হয়েছে দেশের ব্যাঙ্কগুলিতে।” রিভার্স রেপো রেট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছেন শক্তিকান্ত। রিভার্স রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে যাচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত থাকছে রেপো রেট।
দেশে বড় শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে বেহাল অবস্থা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পরও। তাই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন আরবিআইয়ের গভর্নর।
পরবর্তী ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বদল আনা হবে এই প্যাকেজে। এমনটাও ঘোষণা করেছেন শক্তিকান্ত। আবাসন শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে আরবিআই গভর্নর এও জানিয়েছেন, এলসিআর প্রয়োজনীয়তা যে ১০০% থেকে হ্রাস পেয়ে ৮০% এ নেমে এসেছে। যার জেরে উদ্বেগে আরবিআই। লকডাউন পরিস্থিতি জারি হওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। দেশের মানুষের প্রয়োজনে সব পদক্ষেপ করবে আরবিআই, এই আশ্বাস দিলেন শক্তিকান্ত।





