আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে যখন গোটা দেশের চিকিৎসক মহল সরব হয়েছে, সেই সময় ফের এল চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যুর জেরে ছড়াল চাঞ্চল্য। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হতেই এই মৃত্যু নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। এবার এল চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।
ঝাড়গ্রামের একটি লজে থাকতেন এই চিকিৎসক। এই লজের অন্যান্য ঘরে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের আরও নানান চিকিৎসকেরও বাস। জানা গিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের মোবাইল থেকে একটি মেসেজ ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল একাধিক নম্বরে। সেই মেসেজ ঘিরে চাঞ্চল্য বেড়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। এবার সামনে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।
এই প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই চিকিৎসকের শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে কোনও কিছু ইনজেক্ট করা হয়েছিল। এর ফলে মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয় চিকিৎসকের। এর জেরেই মৃত্যু। প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই সম্ভাবনার কথাই উল্লেখ করা রয়েছে। তবে ওই চিকিৎসকের শরীরের বাইরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই বলে খবর।
জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের খুনের বিষয় নিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি। থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, বছর দেড়েক আগে তিনিও আর জি করে ছিলেন। আর জি করের চিকিৎসক-অধ্যাপকদের একাংশের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। চাকরি বাঁচাতে ওই চিকিৎসক-অধ্যাপকরা দুর্নীতিতেও মদত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুনঃ টুকলি আটকাতে কড়া রাজ্য, মেডিক্যাল পরীক্ষায় হবে লাইভ স্ট্রিমিং, থাকবে বারকোড, নয়া নির্দেশ নিয়ে কী বলছে জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্ট?
পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নয়, নিজের স্ত্রীকেও একটি মেসেজ করেছিলেন ওই চিকিৎসক। ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিষয়ে স্ত্রীকে মেসেজ করেছিলেন তিনি, এমনটাই খবর। সেই সবও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালের সুপারের কথায়, মৃত চিকিৎসক নাকি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। ওষুধও খেতেন তিনি। মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা কী না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে পারছে না পুলিশ। তবে চিকিৎসকের শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে কী ঢুকেছিল, তা জানতে তৎপর তদন্তকারীরা।






