শেষবার হয়েছিল সেই ২০১৯ সালে। তারপর থেকেই যেন নিজের মাহাত্ম্য হারাচ্ছিল শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। তবে এবার সমস্ত জট কাটিয়ে অবশেষে নিজের ছন্দে ফিরল শান্তিনিকেতন। পাঁচ বছর পর ফের আয়োজিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ ছিল পৌষমেলা। তবে এবার এই মেলা নিয়ে বৈঠক করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের তরফেই এবারের পৌষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ট্রাস্টের ডিড অনুযায়ীই হবে মেলা। সহযোগিতা করবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। নানান বিষয়ে সরকারের থেকে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে যেমনটা আগে হত, এমনটাই স্থির হয় বৈঠকে।
এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বভারতী ও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের তরফে রাজ্য সরকারকে এই পৌষমেলা আয়োজন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের ডিড অনুযায়ী, প্রত্যেক বছর ৭ পৌষ ট্রাস্ট একটি মেলার আয়োজন করবে আর এই মেলায় বিশ্বভারতীর তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। সেই প্রথা মেনেই দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসছিল পৌষমেলা।
আগে পুরনো মেলার মাঠে হত এই পৌষমেলা। তবে পরবর্তীতে মেলার পরিধি বাড়ে, ফলে পূর্বপল্লীর মাঠে করা হত মেলার আয়োজন। ২০১৯ সালে শেষবার হয়েছিল এই পৌষমেলা। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে মেলার আয়োজন করা হয়নি। আর ২০২১ ও ২০২২ সালে বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নানান সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে এই মেলা। সেই দু’বছর বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে অন্য একটি মেলার আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার।
আবার ২০২৩ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের ত্রফেরাজ্য সরকারকে এই মেলার আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে বাঁধে প্রবল গোল। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন রাজ্য সরকার কেন করবে, তা নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফলে মেলা হয়নি। তবে এই বছর ফের মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের ডিড মেনেই অবশেষে আয়োজিত হচ্ছে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা।






