‘কল্যাণ একটা ছোটলোক, আমি ওঁর সঙ্গে মুখ লাগাতে চাই না…’, তৃণমূল সাংসদকে তীক্ষ্ণবাণে বিদ্ধ করলেন মদন, আড়াআড়ি বিভক্ত মমতার দল!

বিধানসভা ভোটের এখনও দেড় বছর দেরি। তবে এখন থেকেই নির্বাচনের ঘুঁটি সাজানো শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন কোন্দল করে যাতে সংগঠনের ক্ষতি না হয়। কিন্তু এদিকে দলের শীর্ষনেতারাই যেভাবে একে অপরকে তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে শানাতে শুরু করেছেন, তাতে তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে তো বটেই।

গত বুধবার মদন মিত্রের নাম না নিয়েই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিঁধে বলেছিলেন, “সারদা, নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত, জেল খাটা, ভোটে গোহারা নেতাদের সঙ্গে আমি মুখ লাগাতে চাই না”। তাঁর সেই মন্তব্যের এবার পাল্টা জবাব দিলেন কামারহাটির ‘কালারফুল’ বিধায়ক।  

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, “বাবা মা শিখিয়েছিলেন, বড়লোকের সঙ্গে ঝগড়া করবে না, আর ছোটলোকের সঙ্গে মুখ লাগাবে না। আমি কল্যাণের সঙ্গে মুখ লাগাতে চাই না”। কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড়ে দিয়েছে পায়ে। তা বলে কি আমিও ঘেউঘেউ করে কামড়াতে যাব? কিছু উত্তর না দেওয়াটাই উপযুক্ত জবাব হবে”।

আসলে এই ঝামেলার শুরু কিছুদিন আগে। তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সভাপত্তি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে কটাক্ষ শানিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাক পদ থেকে সরানোর দাবী তুলে বলেছিলেন, “এই যে আরজি কর কাণ্ড ঘটে গেল, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি কোথায় ছিলেন? কার হাত এঁদের মাথায় রয়েছে জানি না”। সেই সময় তৃণাঙ্কুরের পাশে দাঁড়িয়ে মদন কল্যাণের উদ্দেশে বলেছিলেন, “ও কি করছে না করছে তা নিয়ে কল্যাণ প্রশ্ন তোলার কে”?

সেই থেকেই এউ ঝামেলার সূত্রপাত। মদনের কথায়, “কল্যাণ একবার আসানসোলে প্রার্থী হয়েছিল। এত খারাপ ব্যবহার করেছিল যে দ্বিতীয়বার আর সেখানে যায়নি। শ্রীরামপুর একটা জেতা সিট। ভোটে হারা কল্যাণকে জেতা সিটে প্রার্থী করা হয়েছিল। মমতার হাত ওঁর মাথায় না থাকলে কোর্টের মুহুরির কাজ করতে হত”।

আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিরাট ঘোষণা মমতার, ডিসেম্বর থেকেই চালু হচ্ছে নয়া সুবিধা, টাকা বাড়ল নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের? 

অন্যদিকে আবার মদনের জেল খাটা নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন কল্যাণ। সেই প্রসঙ্গে মদন বলেন, “দলের জার্সি পরে  জেলে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকাকে উজ্জীবিত করেছি। কারণ, আমাকে জেলে রেখেও আমার বিরুদ্ধে কোনও চার্জ ফ্রেম করতে পারেনি। দুর্নীতি তো দূরের কথা। খালি চার্জ ছিল, হি ইজ ভেরি প্রভাবশালী”।

RELATED Articles