কলকাতা মানে যেমন ট্রাম, ভিক্টোরিয়া, গড়ের মাঠ, হাওড়া ব্রিজ, তেমনই কলকাতা মানেই রাস্তায় ছুটে বেড়ানো হলুদ ট্যাক্সি। ট্রামের সঙ্গে সঙ্গে বিগত কয়েল বছরে এই হলুদ ট্যাক্সিও যেন শহরবাসীর কাছে এক নস্টালজিয়ায় পরিণত হয়েছে। যতই ওলা, উবের বা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সি আসুক না কেন, প্রাকৃতিক হাওয়ার এই হলুদ ট্যাক্সি কলকাতাবাসীর কাছে আলাদাই অনুভূতি।
কিছুদিন আগেই কলকাতার রাস্তা থেকে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম তুলে দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানান শহরবাসী। আপাতত কিছু রুটে ট্রাম চলছে। তবে এবার মনে হচ্ছে, এই হলুদ ট্যাক্সির দিনও হয়ত ফুরিয়ে আসছে। এমনিতেই রাস্তায় হলুদ ট্যাক্সির পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে। তবে এবার হয়ত তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে। আরও এক নস্টালজিয়া কী মুছে যাবে কলকাতার বুক থেকে, এখন সেই নিয়েই বেশ মন খারাপ শহরবাসীর।
কেন ঘটবে এই ঘটনা?
আসলে, ২০০৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কলকাতায় কোনও বাণিজ্যিক গাড়ির বয়স যদি ১৫ বছরের বেশি হয়ে যায়, তাহলে তা আর রাস্তায় নামানো যাবে না। বর্তমানে কলকাতায় মোটামুটি ৭ হাজারের মতো হলুদ ট্যাক্সি চলে। কিন্তু এই ১৫ বছরের নিয়মের জেরে এই বছরই প্রায় ৪৪৯৩টি হলুদ ট্যাক্সি বাতিল হয়েছে বা শীঘ্রই হবে। আবার পরের বছরও বাতিল হয়ে যাবে আরও ২৫০০ হলুদ ট্যাক্সি। এর জেরে ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্ব হারাবে এই হলুদ ট্যাক্সি।
১৫ বছরের নিয়মের জেরে ধীরে ধীরে কমে এসেছে হলুদ ট্যাক্সির স্নখ। করোনা পরিস্থিতির সময় শহরে ১৮ হাজার এই হলুদ ট্যাক্সি ছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশের জেরে এখন তা অর্ধেকেরও কম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এরপর হয়ত আর থাকবেই না এই ট্যাক্সি। এই হলুদ ট্যাক্সি মূলত অ্যাম্বাসেডর গাড়ি। কিন্তু হিন্দমোটর এখন এই অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তইর করা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন নতুন মারুতি গাড়ি ট্যাক্সি হিসেবে চলে রাস্তায়। সেগুলির রঙ নীল-সাদা। ফলে হলুদ অ্যাম্বাসেডর ট্যাক্সি যে শহরে আর কিছুদিনেরই অতিথি, তেমনটাই বলা চলে।
আরও পড়ুনঃ ‘বারবার বুঝিয়েও কেন্দ্রের নেতারা বুঝতে চান না…’ বাংলায় মমতাকে সরাতে গেলে কোন কায়দা? বাতলে দিলেন অর্জুন
শুধুমাত্র হলুদ ট্যাক্সিই নয়, এই আদালতের ১৫ বছরের নিয়মের জেরে কলকাতার বুক থেকে উঠে যেতে চলেছে ১৫০০টি বেসরকারি বাসও। আবার সরকারি বাসের সংখ্যাও দৈনিক গড়ে ২৫০০ থেকে এসে দাঁড়িয়েছে ৭০০-তে। ফলে কলকাতা ও শহরতলিতে এই মুহূর্তে বাসের আকাল বলা যায়। গত ৭-৮ বছরে শহর ও শহরতলির ১০০টি রুটের বাস বন্ধ হয়েছে। আর এবার ধীরে ধীরে উঠে যেতে চলেছে হলুদ ট্যাক্সিও। এর জেরে পরিবহণ ব্যবস্থায় বেশ সমস্যা আসতে পারেই বলেই মনে করা হচ্ছে।






