এতদিন ধরে কয়লা, বালি, শিক্ষা নানান ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের একাধিক নেতার। নানান দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতারা জেলবন্দি। কিন্তু এত সমালোচনা, কটাক্ষ সত্ত্বেও দুর্নীতির রাস্তা থেকে যেন সরতেই পারছে না ঘাসফুল শিবির। এবার টোল প্লাজাতেও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে অভিযোগের আঙুল উঠল সেই তৃণমূল নেতাদের দিকেই।
ডানকুনি টোল প্লাজায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই টোল প্লাজা কাদের দখলে থাকবে তা নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন বিবাদ চলছেই তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। এই এই সংগঠনের এক গোষ্ঠী শ্রমিক সংগঠনের অপর গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি থাকার আর্থিক দুর্নীতি ও টোল প্লাজার কর্মীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলল।
তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক নিসার আলি মল্লিক ও সহ-সম্পাদক নিতাই দে-র বিরুদ্ধে ডানকুনি টোল প্লাজায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ করলেন সংগঠনের কর্মীদের। নিসার আলি মল্লিকের ছেলে ডানকুনি টোল প্লাজায় গাড়ি ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৬৩ হাজার টাকা পান বলে অভিযোগ। কিন্তু সেই গাড়ি ব্যবহার করেন জেলার কোনও এক বিধায়ক। এর জেরে বেজায় চটেছেন শ্রমিকরা।
শুধু নিসার আলি মল্লিকই নন, বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সহ-সম্পাদক নিতাই দে-র বিরুদ্ধেও। কর্মীদের কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের উপর দিনের পর দিন নির্যাতন করে চলেছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। সংগঠনের তহবিলের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই দুই তৃণমূল নেতাকে পদ থেকে অপসারণের দাবী তুলেছেন কর্মীরা। তাদের এই বিক্ষোভের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ডানকুনি টোল প্লাজা এলাকা। বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ডানকুনি থানার পুলিশ। তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে টোল প্লাজায়। অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান নি। তবে ডানকুনি টোল প্লাজায় ভাড়া দেওয়া গাড়ি জেলার এক বিধায়ক কীভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।






