সবকটি জেলার মধ্যে মালদহকে নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ মুখ্যসচিবের

করোনার বিপদ যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে এই রাজ্যে। এই রাজ্যে এখনো অবধি করোনা সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা ৩৯২ যার মধ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৩ জন এবং এখনো অবধি মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৫। গতকাল অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ১২। মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ নবান্নে জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা যে করোনা সংক্রান্ত অডিট কমিটি তৈরি করেছেন তাতে আরও তিন করোনার আক্রান্ত মৃতের নাম যুক্ত হয়েছে।

বিকেলের মিটিং এ রাজীব সিংহ জানান, ‘‘গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো ২৯। মঙ্গলবার বিকেল অবধি সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ২৭৪। সোমবার সেই সংখ্যা ছিল ২৪৫। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও করোনা রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাননি। এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ জন রোগ মুক্ত হয়েছেন।’’ তিনি জানান, যে ২৯ জন গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা কলকাতা, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা। উত্তরবঙ্গে নতুন করে সংক্রমনের খবর আসেনি। মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৭১৩টি লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও অবধি ৬ হাজার ১৮২ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।” রাজ্যে আর জি কর, মেডিক্যাল কলেজ এবং চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার থেকে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের সব জেলার মধ্যে মালদহ নিয়ে সরকার একটু স্বস্তিতে আছে বলে জানান মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা ছিল যে, মালদহে সঠিক পরিমানে টেস্ট না হওয়ায় ভাইরাস সংক্রামিতের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু গত দু’দিনে যতগুলি টেস্ট করা হয়েছে তার সব রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ৭৪ টি টেস্টের রিপোর্টই নেগেটিভ।”

করোনার জেরে রাজস্থানে আটকে পড়েছে প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থী। বৈঠকে এ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীর প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এতজনকে এত দূর থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।” আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৩০০ বাসের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু যে সমস্ত রাজ্যের মধ্যে সেই বাস আসবে অনুমতি দিচ্ছে না। যেমন বিহার অনুমতি দিচ্ছে না।” তিনি ওই ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘রাজস্থানের আধিকারিকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি । এরপর আমি নিজে সেখানকার মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলব, যাতে সেখানে আটকে পরা ছাত্রছাত্রীদের কোনরকম অসুবিধায় না পড়তে হয়।”

আরও অন্যান্য খবর