মমতা সরকারের সঙ্গে সহমত পোষণ শুভেন্দুর, দিল্লিতে মোদী সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন প্রয়োজনে, কোন সমীকরণে সহাবস্থান শাসক-বিরোধীর?

শাসক ও বিরোধীর মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা থাকবে, এটা দেখেই অভ্যস্ত সকলে। বিধানসভা মানেই এক উত্তেজনাময় পরিস্থিতি। এমন ছবিই আগাগোড়া ধরা পড়েছে। বিধানসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোই হোক বা অধিবেশন কক্ষ ওয়াক আউট, এমন ঘটনা এর আগে একাধিকবার ঘটিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। কিন্তু এবার হঠাৎ শাসক-বিরোধীর সুর মিলে যাওয়ায় সকলেই যেন চমকে উঠলেন।

আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এক আলাদাই ছবি ধরা পড়ল। শাসকের মতে সঙ্গে সহমত পোষণ বিরোধীর। মমতা সরকারের সঙ্গে সহাবস্থান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। আসলে এদিন বিধানসভায় দমদম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার পরিসর বৃদ্ধির প্রস্তাব ওঠে। কলকাতা-ইউরোপ বিমান পরিষেবা চালুর প্রস্তাব দেয় রাজ্য। সেই প্রস্তাবেই সমর্থন জানান শুভেন্দু অধিকারী।

শুধুমাত্র সমর্থনই নয়, বিমানবন্দর সম্প্রসারণে যদি কেন্দ্র থেকে কোনও বাধা আসে, তাহলে তিনি রাজ্য সরকারের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর। এদিন বিধানসভায় এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে শুভেন্দু বলেন, “ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরে আসা নিয়ে কেন্দ্রের ছাড়পত্র রয়েছে। ফলে নতুন করে কেন্দ্রের অনুমোদন দরকার নেই। বাসা এবং ওপেন স্কাই এগ্রিমেন্ট আছে। আপনারা এদের সঙ্গে কথা বলুন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাড়ানোর জন্য আবেদন করুন। যদি কেন্দ্র কোনও বাধা দেয়। তাহলে আমরা, বিজেপির বিধায়করা যাব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এই প্রস্তাবকে আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি”।

শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আপনি আজ যেভাবে আমায় কয়েকবার মাননিয়া বললেন। সম্মানীয় বললেন। আমি ধন্যবাদ জানাই। ভালো লাগল। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এই প্রস্তাব দেওয়ার জন্য”।

আরও পড়ুনঃ ‘মহুয়া মৈত্রকে পদ থেকে সরান…’, মমতাকে চিঠি ৬ তৃণমূল বিধায়কের, ফের শাসক দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

এদিন অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরোনোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “একটা প্রস্তাব জমা দিয়েছি। অবশ্যই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে বলেছি। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আসলে আন্তর্জাতিক চরিত্র কতটা বজায় আছে সেটা দেখতে হবে। এখান থেকে যে বিমানগুলি আগে ইউরোপ এবং আমেরিকায় যেত সেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে এই প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সোজাসুজি ইউরোপে-আমেরিকায় বিমান চালানো যায়”।

আরও অন্যান্য খবর