বিজ্ঞান (Science) ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বিশ্ব প্রতিনিয়ত নতুন দিগন্তের সন্ধান পাচ্ছে। মানবসভ্যতার প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষত, জীববিজ্ঞান এবং প্রজনন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কিছু সাফল্য অভূতপূর্ব। জিনতত্ত্ব, স্টেম সেল গবেষণা এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রজননের জগতে অভাবনীয় উন্নতি ঘটিয়েছেন। বহু বছর ধরে গবেষণার মাধ্যমে এমন কিছু ধারণা বাস্তবায়িত হয়েছে, যা একসময় অসম্ভব মনে করা হতো।
আজকের দিনে, প্রযুক্তির কল্যাণে বহু জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে শুরু করে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি নজরকাড়া। বিশেষত, ইউনিসেক্সুয়াল প্রজননের ধারণা, যেখানে একই লিঙ্গের প্রাণী সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম, তা এককথায় বৈপ্লবিক। এই ধারণা শুধু জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নয়, ভবিষ্যতের প্রজনন প্রযুক্তির জন্যও এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি, চিনের বিজ্ঞানীরা প্রজনন গবেষণায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। বেজিংয়ের Chinese Academy of Sciences-এর গবেষকরা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে দুই বাবার সন্তান হিসেবে একটি ইঁদুরের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন। এই প্রজননে কোনও মা ইঁদুরের প্রয়োজন হয়নি। বিজ্ঞানীরা ইমপ্রিন্টেড জিনের মাধ্যমে ভ্রূণের স্টেম সেলে সংশোধন ঘটিয়ে এই অসাধ্য সাধন করেছেন। ফলস্বরূপ, একটি ইঁদুরছানা দুই পুরুষ ইঁদুরের ডিএনএ বহন করে জন্মেছে।
এই গবেষণাটি Cell Stem Cell জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০টি জিনের অনুলিপিতে বিশেষভাবে সংশোধন করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের হার অত্যন্ত কম। মাত্র ১১.৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভ্রূণের জন্ম সম্ভব হয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ইঁদুরছানা বাঁচতে পারেনি, তবুও একটি ইঁদুর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও বেঁচে থাকার নজির তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ পূর্ব রেলে প্রথমবার এসি লোকাল! হাওড়া না শিয়ালদহ, কোথা থেকে শুরু হবে যাত্রা?
তবে গবেষণার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এখনও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির সফল ব্যবহার চ্যালেঞ্জিং। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। এমনকি হনুমানের উপরও এই পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজনন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।






