রাজ্যের ১২ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা চলছে। রাজ্য সরকার শংসাপত্র বাতিলের জন্য একাধিক আবেদন জমা দিয়েছিল, কিন্তু সেই আবেদনগুলোর ভিত্তিতে চলছিল একাধিক বিতর্ক। বহু অযোগ্য প্রার্থী ও ভুল শংসাপত্র ইস্যু হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে, মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর পর, শংসাপত্র বাতিলের বিষয়টি আদালতের সামনে উত্থাপিত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের করা শংসাপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, এবং এটি মূল মামলার উপর প্রভাব ফেলবে। আইনজীবীদের একাংশ মনে করেন, ওই আবেদন খারিজ হওয়ার ফলে মূল মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে, কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দিতে পারে।
তবে, অন্য পক্ষের আইনজীবীরা এই মতের বিপরীতে বলছেন, যে আবেদনটি খারিজ হয়েছে, সেখানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ফলে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনও নির্দেশ ছিল না যে মূল মামলা খারিজ হবে। বরং, মূল মামলাটি এখনও যথাসময়ে চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরছেন। আইনজীবীরা বলছেন, এই খারিজের প্রভাব মূল মামলার উপর পড়বে কি না, তা স্পষ্ট হবে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী শুনানিতে।
হাই কোর্টে মূল মামলাকারী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের খারিজ হওয়া মামলার রায় মূল মামলার উপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের আবেদন করা মূল মামলায় প্রভাব পড়বে, কারণ সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের একটি মামলা খারিজ করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, যদি মূল মামলায় সেই রায়ের প্রভাব পড়ে, তবে তারা আদালতে আবেদন জানিয়ে আরও পদক্ষেপ নেবেন।
আরও পড়ুনঃ মায়ের দরকার নেই! দুই বাবা মিলে জন্ম দিল সন্তানের
হাই কোর্টের রায় পরবর্তী সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী আইনজীবী ফিরদৌস শামিমও এই খারিজের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, “রাজ্য এখানে উপস্থিত ছিল না, অথচ আদালতে বিচারাধীন ছিল মূল মামলা। রাজ্যের এই অনুপস্থিতি প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি মনে করেন, রাজ্যের ভূমিকা এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে, কারণ ভবিষ্যতে সেটি মূল মামলার রায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।





